1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
সিলেট বিআরটি যেন এক অনিয়মের মহোৎসবের কারখানা - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ফতুল্লায় গাড়ির এসি চোর চঞ্চল-জিহাদ আটক, ছাড়াতে থানায় এনসিপি নেতার তদ্বির বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. হাবিবুর রহমান শওকত’র ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে কর্মশালা: রিপোর্টিংয়ে পেশাদারিত্ব-নৈতিকতা বজায় রাখার তাগিদ দক্ষিণ সুরমায় ইমামদের জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে: এমপি এমএ মালিক নরসিংদীর হাজিপুরে জামে মসজিদের ১০ শতাংশ জমি আত্মসাতের অভিযোগ, দলিল ঘিরে চাঞ্চল্য ‎পরিদর্শনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি নেতা শাকিলের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান শুরু দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক ছোঁয়া দোছড়ির কৃষিপণ্যে ‘দ্বৈত ট্যাক্স’ আদায়ের অভিযোগ: ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা, হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

সিলেট বিআরটি যেন এক অনিয়মের মহোৎসবের কারখানা

reporter ইসমাইল খান নিয়াজ, সিলেট
calendar প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ

অফিসটিতে গড়ে উঠেছে মোশারফ ও রফিকুল এর একটি বিশাল সিন্ডিকেট। দালালদের দৌরাত্ম্য আর অসাধু কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটে এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। মোটরযান পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। ঘুষ ছাড়া এখানে ফাইল নরে না, সম্প্রতি বিআরটি এর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও লার্নার বাতিল, লাইন্সের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং লার্নার কার্ড কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার বল্লা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম নুরু (লার্নার নম্বর: ১০-১৮১৫৪৩২৪) গত ৮ মার্চ নির্ধারিত সময়ে ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নুরুল ইসলাম ২০১৩ সাল থেকেই একজন দক্ষ ‘হেভি’ লাইসেন্সধারী চালক।
‎তার লার্নারে ‘ড্রাম ট্রাক’ উল্লেখ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ওই ভারী যানবাহন দিয়েই পরীক্ষা দিতে বলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লার্নারে ‘মোটর কার’ (ছোট গাড়ি) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং সেই গাড়ি দিয়েই সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন তার লার্নার কার্ডটি কলম দিয়ে কেটে বাতিল করে দেন। লার্নার বাতিলের পর তিনি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের শরণাপন্ন হলে তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় তার লার্নারটি স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেন তিনি। ভুক্তভোগী চালক আরও অভিযোগ করেন, একই দিনে অনেক অদক্ষ চালককে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি হলেন বিআরটিএ সিলেট বিভাগীয় অফিসের উচ্চমান সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে কাজ করছেন সিলেট জেলা অফিসে।
সিলেট অফিসে প্রতিদিন রোলে থাকে ৩শ থেকে ৩৫০ জন পরিক্ষার্থীর তালিকা। প্রতিজন পরিক্ষার্থীর
‎কাছ থেকে গড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেন রফিকুল ইসলাম বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির মালিকানা পবির্তনের কাজটি করেন রেকর্ড কিপার আব্দুর রাজ্জাক। তার হয়ে কাজ করেন দালাল আমিনুর রহমান আমিন (তিনি আওয়ামী সেচ্চাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এখাতে প্রতিদিন এই আমিনের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হয় বলে জানান অনেকেই।
অনুসন্ধান মতে, সিলেট বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতির শেকড় কতটুকু গভীরে, তার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সরেজমিন গেলে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই এই অফিসটি অবস্থিত হলেও, সেখানে প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। বর্তমান মটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এই অনিয়ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের জন্য চালু করা হয়েছে অভিনব এক ‘ঘুষ কোটা’। সাংবাদিক দমনে ‘কোটা ও মার্কার’ পদ্ধতি সিলেট বিআরটিএ-র ঘুষ ও দুর্নীতির খবর যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ১৫ জন সাংবাদিকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের ‘বড়’ ও ‘ছোট’ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন দুটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা। জুনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন একটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা পান। বিনিময়ে সকল অপকর্মের সংবাদ ধামাচাপা দেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার এই ‘মার্কার’ বা চিহ্নিত ফাইলের বিপরীতে জমাকৃত ঘুষের টাকা সাংবাদিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম যোগদানের পর বিআরটিএ-তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুজনকে সাজা দিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ডিসি নিজেই দালালদের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে চরম বিরক্ত হলেও রহস্যময় কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ কারণে দালালরা এখনো অপ্রতিরোধ্য। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দালালরা পালিয়ে যায়, আর মাঝেমধ্যে কেউ আটক হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়।
‎মোশারফের ‘আলাদীনের চেরাগ’ দীর্ঘদিন সিলেট অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে মোশারফ হোসেন নিজেই গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ঘুষের নেটওয়ার্ক। মাত্র কয়েক মাসে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন। তার এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হলেন, মোজাম্মেল হোসেন ইমন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোছা: রাবেয়া আক্তার ভূঁইয়া, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এই দুই কর্মচারীরা সরাসরি ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং মোশারফের হয়ে সব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দুই কর্মচারী প্রায় ১১ বছর থেকে একই স্থানে বহাল রয়েছেন। সিলেট বিআরটিএ অফিস থেকে শুধু এই দুইজনের মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা।
এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ব্লাঙ্ক চেক এবং গ্রাহকদের ভয় দেখাতে রাখা ‘হকিস্টিক’ উদ্ধার করেছিল। জেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও জরিমানা করলেও মোশাররফ হোসেনের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি একচুলও কমেনি।
‎জানা গেছে, মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন বিআরটিএ-তে যোগদানের পর থেকেই নিজের একটি অনুগত দালাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের ১৫-২০ জন সদস্য পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পার্মিট শাখায় দালাল রাজু। ফিটনেস শাখায় আলী,‎আমিনুর রহমান আমিন, কালা জাবেদ, শ্যামল দত্ত, আবুল কালাম, রেদোওয়ান, রানা বাবু, ফয়সল। অন্যান্য শাখায়, কার সিটির মিজান, আওয়ামী লীগ ক্যাডার ফয়ছলের ভাই মিজান, ফখরুল ও জনি, বিএনপি নেতা নজমুল ইসলাম। এই চক্রটি সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করে রাখে এবং মোশারফের হয়ে যাবতীয় দরদাম চূড়ান্ত করে।
‎‎সাপ্তাহিক ‘ঘুষের হাট’ ও লেনদেনের গোপন আস্তানা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে জিন্দাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা গলি এবং ডায়বেটিকস গলিতে এই ‘ঘুষের হাট’ বসে। ঘুষের টাকা সরাসরি অফিসে লেনদেন না করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বাইরে

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com