লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দিঘলটারী এবং কাশিপুর বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ ০২ জন আসামী আটক করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করবে। উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০৯:০০ ঘটিকায় দিঘলটারী বিওপির আওতাধীন দিঘলটারী (থানা-আদিতমারী, জেলা-লালমনিরহাট) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযান পরিচালনাকালীন সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি টহলদল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে নামঃ রিপন মিয়া (৩৫), গ্রামঃ দিঘলটারী, পোষ্টঃ দুর্গাপুর, থানাঃ আদিতমারী, জেলাঃ লালমনিরহাটকে ৪৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২:৪০ মিনিটে কাশিপুর বিওপির আওতাধীন ধর্মপুর (থানা- ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন বিজিবি টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে থামার সংকেত দিলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে মোঃ সবুজ মিয়া (২৫), গ্রামঃ ধর্মপুর, পোষ্টঃ গংগারহাট, থানাঃ ফুলবাড়ি, জেলাঃ কুড়িগ্রামকে ০৯ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং মোবাইলফোন ২টিসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ৫৪ বোতল, যার সিজার মূল্য ২১,৬০০/- টাকা এবং মোবাইলফোন ০২টি, যার সিজার মুল্য ১৭,৫০০/-টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৯,১০০/-টাকা। উল্লেখিত ঘটনায় আটকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আদিতমারী এবং ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়েরপূর্বক মাদকদ্রব্যসহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।