মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজারডুবিতে নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি তিন দিনেও। দুর্ঘটনার পরও বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝখানে বালু উত্তোলনের কাজ চলছিল। এ সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় লোড ড্রেজারটি উল্টে যায়। এতে ড্রেজারে থাকা কর্মচারী জুলহাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ জুলহাস মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির ছেলে। তিনি লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার বিল্লাল খানের অধীনে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় হরিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম?
এদিকে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও থামেনি বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়বে? তাঁরা অবিলম্বে নিখোঁজ জুলহাসকে উদ্ধারে জোরালো অভিযান পরিচালনা, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) এখতিয়াধীন। প্রশাসন থেকে নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইজারাদার বিল্লাল খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শারমিন সুলতানা জানান, নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।