তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সেবা সহজলভ্য ও কার্যকর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে কারখানা ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের হোটেল শৈকতে সংশপ্তক, জিআইজেড (GIZ) ও একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত “Odhikar – Awareness Drive for Obtaining Valid NID for RMG Workers” প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আরিফ আহমেদ খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ সাকাওয়াত হোসেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন, জিআইজেড, একশনএইড বাংলাদেশ, সংশপ্তক এবং বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন। জিআইজেডের সিনিয়র সোশ্যাল প্রোটেকশন অ্যাডভাইজর সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকল্পের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মারুফ হোসেন প্রকল্পের কার্যক্রম ও প্রত্যাশিত ফলাফল বিষয়ে উপস্থাপনা করেন।
সভায় কারখানা প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন জটিলতা, তথ্য সংশোধন, ঠিকানার অসামঞ্জস্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা শ্রমিকদের জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে পৃথক সেবা চালুর দাবি জানান।
প্রধান অতিথি ফরহাদ সিদ্দিক বলেন, শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার ‘LIMS’ অ্যাপ চালু করেছে। তবে মালিকপক্ষ সঠিক তথ্য সরবরাহ না করলে এ উদ্যোগ সফল হবে না। মালিক ও শ্রমিকের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সঠিক NID নিশ্চিত করা সম্ভব।
আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ সাকাওয়াত হোসেন শ্রমিকদের জন্য NID সেবা সহজীকরণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। শ্রমিকদের NID-সংক্রান্ত সেবা পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে পৃথক বিভাগ স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বৈধ NID নিশ্চিত করা হলে তারা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।