1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. api@wordpress.local : apisystem :
  3. backupadmin@wordpress.com : backupadmin :
  4. admin@hosting.panel : hosting.panel :
  5. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  6. system@openreplay.com : wp-backup :
সোনালী চেলায় ২রাতে ড্রেজার দিয়ে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
বিরামপুরে নবাগত ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের মতবিনিময় ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ২ ধুনটে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা বোয়ালখালীর ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৩৯ কেজি মাছের পোনা বিতরণ ও অবমুক্ত সোনালী চেলায় ২রাতে ড্রেজার দিয়ে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট বোয়ালখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা বেতাগীর চার ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় সরকারি অনুদান, বেতন-ভাতা ও বই বিতরণ, পাঠদান নেই—তদন্তে প্রশাসন কালকিনি থানা পরিদর্শন করলেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ভালোবাসার কাঙাল মানুষ নজরুল বর্ষে আসছে জনপ্রিয় কথা ও শিশুসাহিত্যিক তুলতুলের ‘ছোটদের নজরুল’

সোনালী চেলায় ২রাতে ড্রেজার দিয়ে ৫০ কোটি টাকার বালু লুট

– প্রতিবাদকারীরাই মামলার আসামি

reporter অমিত তালুকদার
calendar প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ

নদী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় স্থানীয়রা | সরেজমিনে রাতভর শতাধিক ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ | ইজারাদারের দাবি, ইজারাবহির্ভূত এলাকায় প্রভাবশালীদের তৎপরতা | প্রশাসন বলছে, একাধিক অভিযান ও মোবাইল কোর্ট হয়েছে | থামানো যাচ্ছেনা ড্রেজারের আগ্রাসন | পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

একদিকে নদী বাঁচানোর দাবি। অন্যদিকে রাত নামলেই নদীর বুক চিরে ড্রেজারের বিকট শব্দ। দিনের আলোয় নদী শান্ত। কিন্তু রাত গভীর হলেই বদলে যায় সেই দৃশ্য। একের পর এক ড্রেজার নামে সোনালী চেলায়। নদীর তীর থেকে উঠতে থাকে বালু। চলে নৌযান। চলে হিসাব। চলে বেচাকেনা।আর এই দৃশ্যের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের কয়েকজনের নামই এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলার আসামির তালিকায়।সেখানেই জন্ম নিয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি। নদী রক্ষার দাবিতে দাঁড়ানো মানুষ কি নদী ধ্বংসের আসামি, নাকি এই মামলার আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনালী চেলা নদী নিয়ে এমনই এক জটিল বাস্তবতার অনুসন্ধানে নেমেছে এই প্রতিবেদক। নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সোনাপুর, কলাবাগান, কাজিরগাঁও, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।এর আগে নদীতে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২১টি ড্রেজারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগটি এক দিনের নয়, দীর্ঘদিনের।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত অভিযান, এত অভিযোগ, এত প্রতিবাদের পরও রাত নামলেই ড্রেজার কীভাবে নদীতে নামে?

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সোনালী চেলা নদীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে যায় এই প্রতিবেদক।
রাত তখন প্রায় ১২টা।নদীর চারপাশ নীরব। কিন্তু নদীর বুক থেকে ভেসে আসছে একের পর এক ড্রেজারের বিকট শব্দ। রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সরেজমিনে প্রায় শতাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
শুধু নদীর মাঝখান নয়, কোথাও নদীর তীর ঘেঁষে, কোথাও তীরের কাছাকাছি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। ড্রেজারের শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিল।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো রাতের ঘটনা নয়। রাত হলেই বিভিন্ন পয়েন্টে একই চিত্র দেখা যায়। তবে এক রাতে পর্যবেক্ষণ করা ড্রেজারের সংখ্যা দিয়ে নিয়মিতভাবে প্রতিদিন কত বালু উত্তোলন হচ্ছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশাসনিক রেকর্ড, ড্রেজারের ধারণক্ষমতা, উত্তোলনের সময় এবং পরিবহন করা নৌযানের হিসাব প্রয়োজন।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের করা মামলা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর পর কয়েকজন এলাকাবাসী মামলার আসামি হয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, পরিবেশ রক্ষার অভিযোগ তুলে যারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন, তদন্তে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং মামলায় তাদের আসামি করার পেছনে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন তারা।

নদীপাড়ের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নদী এলাকায় এলেও সন্ধ্যার পর আবার ড্রেজার চলতে থাকে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাইনি। দিনে অভিযান বা তৎপরতা দেখা গেলেও রাত হলেই নদীতে আবার ড্রেজার নামে। তাঁর অভিযোগ, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের কিছু সদস্য নদীতে এসে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে দেখা করে চলে যান। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন নদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি হচ্ছে কি না, হলে রাতের বেলা বালু উত্তোলন কীভাবে চলছে এবং অভিযানের পরও তা পুনরায় শুরু হচ্ছে কেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দোয়ারাবাজারের দৌলতপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া এবং ছাতক উপজেলার কাজিরগাঁওয়ের নূর ইসলাম, মজিদ, জয়নাল ও নূরুল হকসহ কয়েকজন এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা বৈধ ইজারা, অনুমোদিত এলাকা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমতির আওতায় বালু উত্তোলন করছেন কি না এ বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।তাই মূল প্রশ্ন এখন তিনটি, নদীর যে অংশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে, সেটি কি বৈধভাবে ইজারাকৃত? ড্রেজার ব্যবহারের অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না? অনুমোদনের বাইরে বালু উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

স্থানীয়দের দাবি, মামলায় প্রকৃত অপরাধী কে বা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কী তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধ বা অনুমোদনবহির্ভূত ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে প্রতিবাদকারীরা কেবল পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি নেই, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের অব্যাহতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদনবহির্ভূতভাবে ড্রেজার চালিয়ে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ড্রেজারের বিরুদ্ধে কয়েকবার অবস্থান নিয়েছিলেন তারা করেছিলেন প্রতিবাদ। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সুত্র ধরে মামলা করা হয় এমনটাই বলছেন সেই রোয়াব আলী। তিনি কোণিমোড়া বাজারে ভুষি মালের ব্যবসা করছেন ৩ বছর যাবত। পূর্বে চুনাপাথর ব্যবসায়ী ছিলের এর আগে কোনো ধরনের মামলার সাথেও জড়িত নন। চৈলতার ঢালা থেকে বাড়ির দুরত্ব ২. ৫ কিলোমিটার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জায়গা কিনে বালু বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তিনি আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান ও রহমতপুরের দ্বীন ইসলামের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৬২ বছরের বৃদ্ধ ধন মিয়া মেম্বার সোনাপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার দীর্ঘদিন যাবত হার্টের সমস্যায় ভোগছেন। উনার সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৫ তারিখে বাড়িতে আসেন পরে জানতে পারেন মামলার আসামি তিনি।মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেনা। ড্রেজারের বিরুদ্ধেও নানা প্রতিবাদ সভায় তিনি ছিলেন কিন্তু তাকেই হতে হলো আসামি।

আরজু মিয়া পেশায় একজন কৃষক। দিন আনে দিন খায়। চৈলতার ঢালা থেকে উনার বাড়ির দুরত্ব প্রায় দুই কিলো হবে। পূর্বেও কোনো মামলার সাথে জড়িত ছিলেন না। আকষ্মিক এমন মামলার আসামি হওয়ার কারণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন।

সোনাপুরের মাফিজ আলী, পেশায় বারকি শ্রমিক বয়স (৪০)। তিনি জানান অনেক দিন ধরে বারকি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। নদীতে ড্রেজার চলায় তারা কাজ পায় না, তাই ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন কিন্তু পরিস্থিতি ফিরে আসে তার কাছে কঠিন বাস্তবতা পেয়ে। আন্দোলনের কারণেই এখন তিনি মামলার আসামি।

ইলিয়াছ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায় উনি সোনাপুর, দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা। উনার মাথার মাঝে একটি ক্ষতও আছে, এছাড়াও ভুগছেন নানা বার্ধক্যজনিত রোগে। চলতে ফিরতেও পারেন না ঠিক মতো এইতো কদিন হলো একটু হাটা চলা করেন অনেকদিন ছিলেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার দুই ছেলে প্রবাসী তাদের উপার্জিত টাকা দিয়েই উনি জীবন পার করেন। মামলার বিষয়ে কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছেন উনি বলেন জীবনে বালুর ব্যবসা করছি না কে যে শত্রুতা করে নাম দিলো আল্লাহ জানে।

ছাতকের রমজান আলী বর্তমানে ৮০০ টাকা হাজিরায় রয়েলটি ঘাটে তিন বছর যাবত কাজ করে আসছেন। ড্রেজারের বিরুদ্ধে তিনিও অবস্থান নিয়েছিলেন যাতে করে নদী রক্ষা পায় কিন্তু তার প্রতিবাদের ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় মামলা। তিনি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামিলীগ থাকা সময়ে এই জায়গার বালু লুটের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। কিন্তু বর্তমানে ছাতকের কিছু বিএনপি নেতা ঐ স্থানে জায়গা কিনে বালু বিক্রি করে। তারার বিরুদ্ধে কেউ বলে না তারার নামে মামলা হয় না কিন্তু আমরা আসামি হই। আমার যদি বিন্দু মাত্র কোনো দোষ থাকে আর আমি যদি জড়িত হই তাহলে আমারে যেকোনো সাস্থী দেওয়া হোক। তিনি আরও বলেন আব্দুল হেকিম চেয়ারম্যান ও রহমতপুরের দ্বীন ইসলাম এই সবের সাথে জড়িত তারাই মেইন সিন্ডিকেট। তারার নিয়ন্ত্রনেই সব হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

ইসলামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আব্দুল খালেক থাকেন প্রবাসে প্রবাস থেকে বাড়িতে এসেছিলেন পরিবারকে নিয়ে কিছু ভালো সময় কাটানোর জন্য। আসার পর নদীর মধ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু লুটপাট হতে দেখে অংশ নিয়েছিলেন কিছু প্রতিবাদ সমাবেশে। সেই সমাবেশের কিছু দিন পর দেখেন তিনিও মামলার আসামি।

আলমপুর গ্রামের নজির আলী বয়ত ৬৩ হবে। ৩০ বছর ছিলেন প্রবাসে। বয়সের চাপে এখন আর আগের মতো সক্ষমতা নেই। বাড়িতেই থাকেন বেশিরভাগ সময় অসুস্থতার কারণে কিছুই করতে পারেন না। দুই ছেলে ফ্রান্স প্রবাসী। গ্রামের প্রবীণ লোক হওয়ায় পূর্বে ড্রেজারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই কিন্তু তাকেই করা হয় মামলায় আসামি।

সোনাপুর গ্রামের বাবুল মিয়া বয়স (৫০) তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন সেই টাকা দিয়েই চলে সংসার তিনি বলেন, আমরা ড্রেজারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা হয়ে যাই মামলার আসামি। আমরা চাই না আমরার বাড়িঘর খুদে নিক। তিনি আরও বলেন এখানে ছাতকের সুরত আলী সহ আরও অনেকেই জায়গা কিনে রেখেছেন তারাই এসব করে। এ বিষয়ে সুরত আলী বলেন, আমি বালুর ব্যবসা করি আমি মাল কিনে স্টক করি, এখন আমি যাদের কাছ থেকে বালু কিনি তারা কোন জায়গা থেকো দিবে এইটা তাদের ব্যাপার৷

তবে রহমতপুর, সোনাপুর, আলমপুর, ছনবাড়ি, কলাবাগান আশপাশের অনেক লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব সোনাপুর সোনালী চেলার কলা বাগান এলাকা এবং চৈলতার ঢালা ও মরা গাং নিয়মিতই ড্রেজার দিয়ে লুট পাট করা হয় বালু।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন অনুসন্ধানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গিয়ে দেখা যায়, রাত্রি ১২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত প্রায় একশতাধিক ড্রেজার দিয়ে
নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের বিকট শব্দ ১ কিলোমিটার দুর থেকেই শুনা যাচ্ছিল। নদী তীরের এই বালু ২০ টাকা ফুট দরে বিক্রি হচ্ছিল। ঐ দিনের লাইন অর্থাৎ জায়গার সমস্ত হিসেব রাখছিলো কয়েকজন ব্যক্তি এর মধ্যে একজন লোকের নাম ফরিদ, তার সাথে কথা বলে জানা যায় কোম্পানিগঞ্জ থেকে আগত আব্বাস এই জায়গা কিনে রেখেছেন আর ঐ স্থানে রবিউল, ফয়সল, ফরিদ, লিটন দাস,আফজাল মিয়া সহ আরও কিছু লোক সেই জায়গায় বিক্রি করা বালুর হিসেব রাখছেন। তবে আরী আব্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই জায়গায় ভাই আসলে আমি কিছুই না এখানে ছাতকের বুলবুল হাজী, সুরত মিয়া , বশির কোম্পানি সহ অনেকেই ।আমি কোম্পানিগঞ্জে বালু স্টক করি আমি অন্যরার মতো ঐ জায়গা থেকে বালু কিনে আনি। তবে ঐ জায়গার সর্বোচ্চ বলতে পারবে শাহ রুবেল যিনি চেলা নদীর ইজারাদার আর টুটুল ভাই করে একজন আছে তারাই বলতে পারবে কে এই জায়গায় বালু বিক্রি করছে আর কে ড্রেজার চালাচ্ছে।

এই বিষয়ে চেলা নদীর ইজারাদার শাহ রুবেল বলেন, আমার ইজারার স্থানের বাহিরে কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী লোক রাতের আধারে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করছে এ নিয়ে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দ্বায়ের করেছি। বালু উত্তোলনের সাথে আমার স্টাফ বা আমার কেউ জড়িত নয় এমনকি পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত আছে। অবৈধ বালু থেকে রয়েলটি আদায় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, কোন জায়গা থেকে আসতেছে একটা নৌকা থেকে এখানে তো ভেরাইটিজ বালু থাকে। যখন বালু গুলো পরে এখানে ড্রেজারের বালু থাকে, নদীর বালু থাকে, আমি তো ফাইন্ড আউট করতে পারছি না বালু গুলো কোথা থেকে আসে। তিনি আরও বলেন নির্ধারিত সীমানার বাহিরে কিছু অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ড্রেজার চালিয়ে আমাদের বালু মহালের বদনাম করছে আমরা সেই বিষয়ে পুলিশ সুপার মহোদয় এবং জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।

এবিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মোহাইমিনুল হক জানান, নদীতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে আমরা সরজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলি এবং ২ জন স্বাক্ষী দিতে রাজি হওয়ায় আমরা মামলা দায়ের করি। যারা আসামি হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যদি সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া যায় তাহলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দোয়ারাবাজারে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। টাস্কফোর্স অভিযান হয়েছে। কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং নৌযান জব্দের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ইজারাদারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ তিনি পাননি। এখানেও তৈরি হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি।ইজারাদার বলছেন, তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলছেন, তার কাছে এমন অভিযোগ পৌঁছেনি।
তাহলে অভিযোগটি কোথায় জমা হয়েছে, কোন শাখায় আছে এবং তার পরবর্তী ব্যবস্থা কী হয়েছে?

সোনালী চেলা নিয়ে অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে কয়েকটি প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।এক. চেলা নদীর ইজারাকৃত সীমানা ঠিক কোথায়? দুই. ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর রাতের বেলায় যে এলাকায় ড্রেজার চলেছে, সেটি ইজারাকৃত এলাকার মধ্যে নাকি বাইরে? তিন. নদীতে বর্তমানে মোট কতটি ড্রেজার চলছে? চার. এসব ড্রেজারের বৈধ অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি? পাঁচ. প্রতিদিন আনুমানিক কত ঘনফুট বালু উত্তোলন হচ্ছে? ছয়. উত্তোলিত বালুর কত অংশের রয়্যালটি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে?সাত. রয়্যালটি খাতা ও বাস্তবে পরিবহন করা বালুর পরিমাণের মধ্যে মিল আছে কি?আট. প্রশাসনের অভিযানে জব্দ হওয়া ড্রেজার ও নৌযানের বর্তমান অবস্থা কী? নয়. নদী রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কী?
দশ. নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে কোনো নিরপেক্ষ কারিগরি সমীক্ষা হয়েছে কি?

সোনালী চেলার গল্পটি বালুর গল্প বলে শেষ করা যাবেনা।এটি হয়ে গেছে নদীর গল্প।একটি জনপদের গল্প। জীবিকার সঙ্গে লড়াই করা শ্রমিকের গল্প। ভাঙনের আশঙ্কায় থাকা মানুষের গল্প।আর একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব, ইজারা, পরিবেশ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির গল্প।
একদিকে ইজারাদারের দাবি, তার এলাকার বাইরে প্রভাবশালীরা ড্রেজার চালাচ্ছে।অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, অবৈধ উত্তোলন ঠেকাতে একাধিক অভিযান হয়েছে। কিন্তু অন্য দিকে জনপদ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com