বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি উপকারভোগী নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী পরিবারগুলো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবে। উপকারভোগীরা বিকাশ, নগদ অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে দিরাই উপজেলার আকিল শাহ, রাধানগর ও উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে বাছাই করা ৬৯৭টি পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় দেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার। সরকার গঠনের ২১ দিনের মধ্যেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি চালু করে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে দীর্ঘদিন বিনিয়োগে স্থবিরতা ছিল। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরি হয় না, আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে দারিদ্র্য বাড়ে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘদিন সাগরপথে সমস্যা থাকলে নৌপরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে এই মুহূর্তে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সমাজসেবার বিভাগীয় পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম। এ সময় দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।