স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার ১১ নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নদীর চর দখল ও ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রভাবশালী মহল। জানা গেছে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বসেই নদীর চরে অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পদ্মপুকুর ভূমি অফিসে মুঠোফোন কল করলে ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে একাধিকবার নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমার নিষেধ অমান্য করে সেখানে কাজ অব্যাহত রেখেছে।
এবং তারা বলেছে একটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা এখানে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসছে ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন আরো বলেন যেহেতু এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা সেজন্য আমি কোন অ্যাকশন নিতে পারি না।
এ ব্যাপারে আরো জানতে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে মুঠোফোনে কল করলে কর্মকর্তা জানান। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন আমাদের শ্যামনগর উপজেলার আন্ডারে হলেও ওখানকার দেখভাল করেন আশাশুনি ডিভিশন।এ ব্যাপারে আরো জানতে আশাশুনি পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে বারবার মুঠোফোনে কল করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দখল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন গড়কুমারপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জামায়াতের প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল গফফার, ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিগন । এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে দৈনিক ঘোষণার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের, সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দৈনিক ঘোষণার প্রতিনিধিকে জানান তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে একটি কাগজ করে নিয়েছে এবং সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান, এবং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মী তাকে নদীর চরে স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখতে বলেছেন।
দৈনিক ঘষণার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের, কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান।
শ্যামনগর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কাগজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোন কাগজপত্র দেইনি।
দৈনিক ঘোষণার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফার সম্পর্কে আরো জানতে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ খবর নিলে এলাকাবাসী জানান আব্দুল গফফার জামায়াতের রাজনীতির সাথে সক্রিয় এলাকাবাসী আরো বলেন তারা এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে বলতে গেলে আব্দুল গফফার তাদেরকে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব দেখিয়ে এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে।
এদিকে, গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর তীরে অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। কে আগে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে পারেন—এ নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। কেউ নদীর বাঁধে, আবার কেউ নদীর জেগে ওঠা চরে গড়ে তুলছেন দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খোলপেটুয়া নদী স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা