ঢাকার ধামরাই উপজেলার আমতলা-সুঙ্গুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুরোনো টায়ার ও রাবারজাতীয় সামগ্রী পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব টায়ার পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য, গবাদিপশু ও কৃষিজমির ওপর—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে পুরোনো টায়ার, রাবার ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে তেলসহ বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। টায়ার পোড়ানোর সময় আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ও অসহনীয় দুর্গন্ধ। বাতাসের সঙ্গে এসব ধোঁয়া আশপাশের বসতবাড়িতেও প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাসিন্দারা জানান, ধোঁয়ার কারণে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে তারা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দূষণের কারণে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া ও শারীরিক অস্বস্তিসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তারা। তবে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে টায়ার পোড়ানোর সরাসরি সম্পর্ক চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত করতে পরীক্ষা প্রয়োজন।
শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কালো ধোঁয়া ও পোড়া রাবারের বর্জ্য আশপাশের জমি ও জলাশয়ের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে গবাদিপশু ও পশুপাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে একদিকে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে?
তারা অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে টায়ার পোড়ানোর বিষয়টি তদন্ত, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে এবং �জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।