নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘহাটা এলাকায় জমি দখল করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে বাধা দিতে গেলে পুলিশ তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাছেদ মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মৎ রাশিদা আক্তারের দাবি, বাঘহাটা এলাকায় তার নামে প্রায় ২ শতাংশ ৭৫ পয়েন্ট জমি রয়েছে। ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মালিকানা ও ভোগদখল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমির অংশ দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন রাশিদা।রাশিদা আক্তার বলেন, “পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক আমার জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। নিজের জমি রক্ষা করতে গিয়ে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি।”
বাছেদ মিয়ার অভিযোগ, ছয়েজ উদ্দিন গাজী, পিতা-মৃত সাহাজ উদ্দিন গাজী; সেলিম, পিতা-মৃত সিরাজুল ইসলাম এবং ইয়াকুব, পিতা-মৃত আকবর আলী—তারা বিরোধপূর্ণ জমির অংশবিশেষ দখলে নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পিন্টুর উপস্থিতিতে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাড়াবাড়ি করলে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা মানিক ব্যাপারী বলেন, জমিটি রাশিদা আক্তারের নামে রয়েছে বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাশিদার জমির অংশে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষের ভিন্ন দাবি রয়েছে।অভিযুক্ত সেলিম মিয়া বলেন, তিনি ৩ শতাংশ জমি কিনেছেন। অন্যান্য জমিসহ তার জমির পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তিনি বৈধভাবে জমি কিনেছেন এবং জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের সময় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পিন্টুর উপস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনচার্জ পিন্টু বলেন, “আমরা কোনো পক্ষ নিইনি।”জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে নির্মাণকাজ চলায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে এ নিয়ে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, দলিল, খতিয়ান ও নামজারি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা এবং দখলের বৈধতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ভূমি রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।