প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। তার এমন উদ্যোগের অন্যতম একটি হলো বিদ্যালয় পরিদর্শন করা,প্রায়ই তিনি কাউকে অবগত না করে হঠাৎ করেই চলে যান বিদ্যালয়ে। এতে শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বারছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসাবে তিনি ২৭ জুন শনিবার হঠাৎ করেই চলে যান উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের ভুগলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার চর ঝাউগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে।
সেখানে তিনি ১ম,২য় ও ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের
একটি করে ক্লাস নিয়েছেন। পড়িয়েছেন শিক্ষার্থীদের ঘণ্টাব্যাপী । এ সময় তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, ফলের নাম,মাছের নামসহ সহবিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করাসহ শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়া ও হাতের লেখার মান যাচাই করেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষকদের উপস্থিতি তদারকি করেন এবং শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের ৫বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন কর্মসুচীর অংশ হিসাবে বৃক্ষ রোপন করেন। অভিভাবকদের সাথেও বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার গুনাগুন বিষয়ে কথাবার্তা বলেন।
ইউএনও আরিফুল ইসলাম ইসলাম বলেন, শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড, এই মেরুদন্ড শিশুকাল থেকে শক্ত করে নিতে হবে, তাই প্রাথমিক শিক্ষার গুনমান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই কাজের অংশ হিসেবে প্রতিদিন উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে যাচ্ছি। সময় সুযোগ পেলেই আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিই, আলোচনা করি। এটা আমার খুব ভালো লাগে। তা ছাড়া এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিজের নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, দেশ ও মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এবং সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনওর ক্লাস নেওয়া প্রসঙ্গে ২য় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, স্যারের ক্লাসে খুব আনন্দ পেয়েছি। তিনি খুব মজা করে পড়িয়েছেন। ওনার কাছ থেকে আমরা অনেক নতুন বিষয় জানলাম।
অভিভাবক রুহুল মিয়া বলেন, ইউএনও স্যার মাঝে মাঝে এমন পাঠদান করালে আমাদের বাচ্চাদের খুব উপকার হবে। শিক্ষকদের মধ্যেও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বাড়বে। বাড়বে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি।
ভুগলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ইউএনও স্যারের ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা অনেক আনন্দ পেয়েছে। স্যার এই এক ঘণ্টা সময় তাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। অনেক বিষয় নিয়েই তিনি আলোচনা করেছেন।
এ ধরনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করেন অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আরমান । তিনি বলেন, এ রকম উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রকৃত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে নিয়মশৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও’র সাথে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল হক ফারুক রেজা,সমাজসেবা অফিসার আসাদুজ্জামান,আইসিটি অফিসার হাবিবুল্লাহ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।