শিশুকাল যখন, তখন রেডিও তৈরি করেছি নিজে। যে “রেডিও পাকিস্তান” কুসুম মামার কাছ থেকে শিখেছি তৈরি করার পদ্ধতি। আমি কুসুম মামাকে ফলো করতাম উনি যেন কি একটা করছেন নিরিবিলি। আমি বয়সে একেবারেই কম ছিলাম তবুও কুসুম মামার পিছু ছাড়িনি। কুসুম মামা কখন ও পড়ার টেবিলে কখনো বা কবুতর নিয়ে কখনো বা আম গাছের পাকা আম চোর কুটা দিয়ে কিভাবে পারে তা আমার নজরে পড়ে। চুপ করে থেকে দেখলাম একদিন কুসুম মামা তার নিজস্ব পড়া পড়ছেন মুখস্থ কিন্তু কি যেন একটা করবেন তা নিয়ে উনি ভাবছেন, দেখলাম রডের কয়েকটি টুকরা তার হাতে, কিছু তার’ হেডফোন নিয়ে কিছু করবে। আমি প্রশ্ন করে ফেললাম আপনি কি করবেন এগুলো দিয়ে, উনি উত্তরে বললেন চুপ করে থাকো কথা বলা যাবে না চেয়ে দ্যাখো তুমি। আমি দেখতাম আবার নিজ ঘরে আসতাম মন মানতো না ঘুরে ঘুরে আবার যেতাম কুসুম মামার ঘরে বসার সুযোগ পাইনি, তাই বিভিন্নভাবে দেখতে হবে, গোসল খাওয়া ছিল না আমি দেখব বলে, কুসুম মামা তার ঘরের মাটির পিরার মধ্যে গাথল ওই রডে এক, এক টুকরা, এরপর “তার” জরালো কিন্তু তখন “হেডফোন” আলাদা। উনার পড়ার রুম একটাই। খুব চিন্তিত কুসুম মামা, আমিও কথাই বলতে পারব না, কথা বললেই উনি বলবেন তুমি যাও তোমার ঘরে, সেজন্য আমি নিশ্চুপ। কোন এক সময় দেখি কুসুম মামা “হেডফোন” নিজের মাথায় দিয়ে কিছু একটা শুনছেন। আমি দেখলাম উনার মুখে একটু হাসি, মনে হলো উনি, উনার কাজ যেটি করছিলেন তা হয়তো হয়ে যাচ্ছে। কুসুম মামা ঐ অবস্থায় একবার “হেডফোন” রেখে আবার পিরার মধ্যে কাজ করছেন। অবশেষে আবারো “হেডফোন” মাথায় দিয়ে স্পষ্ট হাসি দিলেন। হাসি দিয়ে উনি আমার মাথায় “হেডফোন” দিয়ে দিলেন। আমি শুনলাম তখন রেডিও বাজছে। কুসুম মামা আমাকে বললেন দেখেছো এত সময় কি করলাম? আমি তখন “বায়না” ধরলাম আমাকে আপনার এখানে যা বেশি আছে, তা আমাকে দিবেন আমিও তৈরি করব “রেডিও পাকিস্তান”। উনি দিলেন ও বললেন তুমি একা-একা করবে আমি দেখব তুমি কি করছ? সত্যি তাই হল আমি ঘরের পীড়ায় যেভাবে কুসুম মামা যা করেছেন তা করলাম। আমি এগোতে পারছি না, হচ্ছে না, বারবার চেষ্টা চালাচ্ছি। যথেষ্ট ব্রেন খাটিয়েছি যে এখনো মনে হয় আমার এত কষ্ট কোন কিছুতেই করতে হয়নি। আমি ও কুসুম মামাকে অনুকরণ করে কোন এক সময় আমার ‘হেডফোন’ (যা সরঞ্জাম আমাকে দিয়েছেন) কানে নেই, কিন্তু আমার “হেডফোনে” ঝিরঝির শোনা যাচ্ছে, আমি ভাবছি কুসুম মামাকে ডাকবো কিনা? উনি বলেছেন তুমি নিজে করবে। আমি পারছি না ক্লান্ত অনেক ভেবে নিয়ে কুসুম মামাকে ডাকলাম, আমার ঘর থেকেই উনি আসলেন ও বললেন দাও তোমার “হেডফোনটি” আমি দিলাম এরপর সব নাড়াচাড়া দিয়ে দেখে নিজের কানে না নিয়ে আমার মাথায় পরিয়ে দিয়ে বললেন, বল তুমি কি শুনছো? আমি খুশিতে লাফ দিয়ে বললাম আমি শুনছি ক্লিয়ার পূবালী ব্যাংকের একটি এ্যাডের অংশ “আমাল ও তো”। আমার হয়ে গেল রেডিও পাকিস্তান তৈরী। কুসুম মামা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর দিয়ে নিজ ঘরে চলে গেলেন। এভাবে কেউ কোনোদিন রেডিও স্টেশন তৈরি করেছে কিনা, কেউ দেখেছে কিনা, আমি আজও জানিনা বা দেখিও নাই।