রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সুরভি প্রতিষ্ঠানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে সুরভির দুঃস্থ ও ছিন্নমূল শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।
দোয়া মাহফিলে মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।একই সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী সৈয়দ ইকবাল মান্দ বানু এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়।দোয়া মাহফিল শেষে সুরভির দুঃস্থ ও ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট নৌসেনা কর্মকর্তা, দেশপ্রেমিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব।তিনি ৩ নভেম্বর ১৯৩৪ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা আহমেদ আলী খান ছিলেন সিলেটের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টারদের একজন।১৯৫২ সালে নৌবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করে মাহবুব আলী খান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন শেষে ৪ নভেম্বর ১৯৭৯ সালে নৌবাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং ১ জানুয়ারি ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়।নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তাঁর সময়ে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুতা নিয়ন্ত্রণ এবং সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা জোরদারে নৌবাহিনীর কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দর এলাকায় একটি বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকাজে থাকা অবস্থায় তিনি আকস্মিক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন।
পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CMH) নেওয়া হলে ৪৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের জন্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান আজও স্মরণীয়।তাঁর কর্মময় জীবন বাংলাদেশের নৌবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সেবার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।তাঁর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান।