“যে বয়সে একটি শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল রঙিন খাতা, পেন্সিল কিংবা একটা পুতুল ঠিক সেই বয়সেই একটি নরপিশাচের কালো ছায়া কেড়ে নিয়েছে তার সব আনন্দ।কুষ্টিয়া আর রাজবাড়ীর সীমানা ঘেঁষা এক জনপদের হতদরিদ্র পরিবারের ৬ বছরের ফুটফুটে শিশু জান্নাতী। আজ বেঁচে আছে এক দুঃসহ ক্ষত আর আতঙ্ক নিয়ে।”
“কুষ্টিয়ার খোকশা থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বসোয়া গ্রাম। বাবা মো. হারুন মন্ডল একজন দিনমজুর। অভাবের সংসারে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটি ঘাম ঝরিয়ে কোনোমতে মেয়েটাকে বড় করছিলেন। গত ৫ আগস্ট, বিকেল সাড়ে চারটা। প্রতিবেশী এক লম্পট, শওকত শেখ গ্রাম পুলিশের ছেলের কুদৃষ্টি পড়ে এই নিষ্পাপ শিশুটির ওপর। প্রলোভন দেখিয়ে ছোট্ট জান্নাতীকে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বসাকুষ্টিয়া গ্রামের একটি কলাবাগানে।”
“কলাবাগানের সেই নিস্তব্ধতায় ঘটে যায় এক দানবীয় পাশবিকতা। শিশুটির আর্তনাদ চাপা পড়ে যায় প্রকৃতির মাঝে। পরে পরিবার জানতে পেরে আইনের আশ্রয় নেয়। পাংশা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত শওকত শেখকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু আইন ও সমাজের ফাঁক ফোকরে সেই নরপিশাচ আজ জামিনে মুক্ত!”
“দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে জান্নাতী এখন বাড়িতে ফিরেছে বটে, কিন্তু তার চোখ জুড়ে আজও ভয়ের ছাপ। সে আর আগের মতো হাসে না, ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। আর এদিকে জামিনে বেরিয়ে এসেই অভিযুক্ত শওকত ও তার পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে হতদরিদ্র এই পরিবারটিকে। দিনমজুর বাবা হারুন মন্ডল আজ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন একটু ন্যায়বিচারের আশায়।”