ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা পল্লী বিদ্যুতের অনেক গ্রাহক চলতি মাসে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, গত মাসে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন, সেখানে এ মাসে একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও ১,২০০ টাকা বা তারও বেশি বিল এসেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ আইচার বাসিন্দা ও পেশায় জেলে মোশাররফ বলেন, “আমি মাত্র একটি লাইট ও একটি ফ্যান ব্যবহার করি। গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ৪০০ টাকা। কিন্তু এ মাসে ১,২০০ টাকা বিল এসেছে। এত কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও কীভাবে এত বিল আসে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন গ্রাহক। তাদের দাবি, অনেক সময় মিটার রিডাররা গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে অনুমানভিত্তিক বা মুখস্থ রিডিং লিখে বিল তৈরি করেন। এর ফলে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি ইউনিট যোগ হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে বলে অভিযোগ তাদের। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অতিরিক্ত বিল সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) প্রকৌশলী কাউছার আহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগে দক্ষিণ আইচার বিদ্যুৎ সরবরাহ বোরহানউদ্দিন থেকে পরিচালিত হতো। বর্তমানে চরফ্যাশন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় গ্রাহকরা আরও উন্নত ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বেশি আসতে পারে।
মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে অনুমানভিত্তিক বা মুখস্থ রিডিং নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ দক্ষিণ আইচা সাব-জোনাল অফিসে যোগাযোগ করুন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিল যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”