ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাসে ভারতে যাওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতকের দুই যুবক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজ তিনজন ভারতের কাশ্মীরে অবস্থান করছিলেন। প্রায় দেড় মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজরা হলেন—ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরে চাকরির কথা বলে ওই তিন যুবক ভারতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কিছুদিন পর্যন্ত তারা স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। পরবর্তীতে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের পক্ষ থেকে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।অভিযোগকারী মোছা. সামতেরা বেগম জানান, নিখোঁজ আলা উদ্দিন তার জামাতা। তার দাবি, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে ওই তিন যুবককে কাশ্মীরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর কয়েকদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে অর্থ দাবির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ যুবকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহিমের বাবা ফারুক প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরও ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
স্বজনদের অভিযোগ, তিন যুবককে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ফারুকের বিষয়ে খোঁজ নিতে এসআই মঞ্জুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এসআই মঞ্জু বলেন, ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে এবং তাকে থানায় আসতে বলা হলেও তিনি আসেননি। তিনি বর্তমানে এলাকায় নেই এবং সিলেটের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফারুক দাবি করেছেন তার ছেলে ফাহিম ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার সঙ্গেও বর্তমানে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফারুকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, ফারুকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ তিন যুবকের বর্তমান অবস্থান, ভারতে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং অর্থ দাবিসহ অভিযোগে ওঠা বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।