সিলেটের বিশ্বনাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক নাঈম আহমেদকে প্রাণনাশের হুমকি ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিএনপির গণমিছিলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী নাঈম আহমেদ ‘জনতার অনলাইন প্রেসক্লাব’-এর প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি বিশ্বনাথে বিএনপির একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি চলাকালীন নাঈম আহমেদ সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মিছিল চলাকালে হঠাৎ করে পেছন থেকে কালো গেঞ্জি ও কালো চশমা পরিহিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি সাংবাদিক নাঈমকে জোরপূর্বক মিছিলের পেছনের দিকে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর হুমকি প্রদান করে।
এই ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক নাঈম আহমেদ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এদিকে, পেশাদার সংবাদকর্মীর ওপর এমন হামলার হুমকিতে বিশ্বনাথের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। তারা অবিলম্বে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের এভাবে হুমকির শিকার হতে হয়, তবে স্বাধীন মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ হবে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন।
সাংবাদিক মহলের দাবি:- স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তারা দ্রুত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস পাওয়ায় সাংবাদিকরা এখন লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সচেতন মহলের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাংবাদিকের ওপর এমন হুমকির বিচার না হলে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন বাধাগ্রস্ত হবে।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন:- গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পেশাদার দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিককে হেনস্তা বা হুমকির বিষয়টি আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কখনোই সমর্থন করে না। তবে এই বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সঠিক তদন্ত পরিচালনা করব এবং দোষীকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”