বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় বরিশাল নগর ভবনের সভাকক্ষে ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। এতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামান।
পরিকল্পিত বরিশাল গড়ার উদ্যোগে প্রশাসকের প্রশংসা বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অংশীজনরা। নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন উপস্থিত অনেকে।
তারা বলেন, বরিশালের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ, জলাবদ্ধতা নিরসন, নগর ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তাসহ সামগ্রিক বিষয়কে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ ধরনের অংশীজনভিত্তিক উদ্যোগ ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব করতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, সচিব রুম্পা শিকদার, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবুল বাশারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন পান্না, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ শিকদার, কে. এম. শহীদুল্লাহ, হাবিবুর রহমান টিপু ও মো. ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সেমিনারে অংশ নেন।
সেমিনারে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ সেমিনারে বরিশালের সার্বিক উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিকসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই নগরায়ণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
অংশীজনরা নগরীর বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, যানজট নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল নগর বাস্তবতায় বরিশালের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে টেকসই ও জনবান্ধব করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। নগরবাসীর প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেমিনারে অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশগুলো বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে বিবেচনা করা হবে।
তাদের প্রত্যাশা, জনসম্পৃক্ততা ও বাস্তবভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও টেকসই মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর ভিত্তি তৈরি হবে।