জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ইসলামপুরে বড় ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছোট ভাইকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ফুলকারচর ব্রিজ থেকে আনন্দবাজার টানাব্রিজের মাঝামাঝি একটি কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত বড় ভাই মোতালেব (৬৫) এবং অভিযুক্ত ছোট ভাই সামিউল মাস্টার (৬০) বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি খেওয়ারচর গ্রামের মৃত আইজদ্দি আমিন সর্দারের ছেলে।
ঘটনার রাতে আনন্দবাজারে এসে এক সিএনজি চালক কয়েকজন মানুষের মারামারির দৃশ্য দেখার কথা জানিয়ে স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর বাজারের ব্যবসায়ীসহ ১০-১২ জন দ্রুত সেখানে গিয়ে মোতালেবকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন যে তার ছোট ভাই সামিউল মাস্টার তাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করছেন। বাজারের ব্যবসায়ী মোছাব্বের রহমান ও অটোচালক মোক্তার হোসেন জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মোতালেবকে রক্তাক্ত ও কাতর অবস্থায় দেখতে পান, যিনি বারবার তাকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিলেন।
স্থানীয় ছানোয়ার হোসেন লিটন জানান, ঘটনার আগে দুই ভাই একসঙ্গে এক বাড়িতে খাওয়া-দোয়া করে বের হয়েছিলেন। এদিকে আহত মোতালেবের দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তের সঙ্গে বোরকা পরিহিত আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, তবে তার পরিচয় ও সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সামিউল মাস্টার পালানোর চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা তাকে হাতেনাতে আটক করে রাখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সামিউল মাস্টার ও তার বোনকে হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে। ইসলামপুর থানার এসআই জুনায়েদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি রেইনকোট এবং একটি সিটি-১০০ মোটরসাইকেল (নম্বর ১১৭২৩৬) উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত সামিউল মাস্টারের পরিহিত পাঞ্জাবিতেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মোতালেবকে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ ও জড়িত অন্যদের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।