চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের, লম্বাবিল এলাকায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ব্যাপক ধর্মীয় আবহের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও আগমন স্মরণে আয়োজিত এ জশনে জুলুসে এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।লম্বাবিল বায়তুন নূর জামে মসজিদ পরিচালনা পরিষদ, সমাজ পরিচালনা পরিষদ ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এ ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ইসলামী পতাকা ও ব্যানার। নাতে রাসুল (সা.), দরুদ ও সালাম এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে লম্বাবিলের পথঘাট। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জুলুসটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি, রোজ রবিবার বাদে এশার পর লম্বাবিল বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।ওয়াজ মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাজিরহাট,জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মুহাদ্দিস, শায়খুল হাদীস হযরতুলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আবদুচ ছালাম শরীফী, বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন, মাইজভান্ডার রহমানিয়া মঈনিয়া দরসে নেজামি আলিম মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক, মাওলানা মুহাম্মাদ রিদোয়ান হোসাইন আল কাদেরী। লম্বাবিল গাউছিয়া চিশতীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার, মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন এবং সিনিয়র শিক্ষক,মাওলানা মোহাম্মদ দিদারুল আলম,উক্ত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন,মাস্টার্স অব আর্টস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব,
আলোচকরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, চরিত্র, সুন্নাহ ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বক্তারা মুসলমানদের রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা এবং সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার চর্চা করার আহ্বান জানান।
মাহফিলে মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ, নাতে রাসুল পরিবেশন এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
দিনব্যাপী জশনে জুলুস এবং রাতে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে লম্বাবিল এলাকায় সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।