সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর একটি এজেন্ট শাখার মাধ্যমে শত শত সাধারণ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এই নজিরবিহীন প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে নরসিংপুর বাজারে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্তরা টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও আমানতকারীরা বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় নরসিংপুর বাজার প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার শত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের সচেতন জনতা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।বাজার কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলতাফুর রহমান খসরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফুর রহমান খসরু বলেন, সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো জমানো আমানত নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে যারা মানুষের সাথে এই ধরনের প্রতারণা করেছে, তারা সমাজের নরপিশাচ। অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং গ্রাহকদের প্রতি কানাকড়িও যাতে মার না যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইনগত ও সামাজিকভাবে এই জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে। গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।সভায় বক্তারা আরও বলেন, একটি ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মানুষ নিরাপদ ভেবে তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় জমা রাখে। কিন্তু নরসিংপুর বাজারের এই ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেই আস্থার চরম খেয়ানত করে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর ফলে আজ অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বক্তারা প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি না করলে এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রতিনিধি হিসেবে আবুল হোসেন, লালা খাঁন ও হালিমা বেগম যৌথ বক্তব্যে তাদের দুঃসহ দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। তিল তিল করে জমানো আমাদের লাখ লাখ টাকা এই এজেন্ট শাখায় জমা রেখেছিলাম। কিন্তু আজ আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে এখন আত্মগোপনে বা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। আমরা উচ্চ মহলের কাছে আকুল আবেদন জানাই, অবিলম্বে আমাদের এই কষ্টের টাকা উদ্ধার করে আমাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
নরসিংপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন রফিকুল ইসলাম, নুর আলী ইমরান, আব্দুর রউফ, মকবুল মিয়া, ইসমাইল আলী, সাদ্দাদ মেম্বার, রফিকুর রহমান, খলিল রহমান, আবদুল মতিন, ফখরুল ইসলাম, মাহবুবুল হক শামীম, মখলিছুর রহমান ও নওশাদ জামিলসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সভা শেষে প্রতারক ও অর্থ আত্মসাতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।