পাহাড়ের সবুজ, পাথরের বিস্তৃতি, স্বচ্ছ জলধারা আর সীমান্তের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সব মিলিয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। পর্যটনের নতুন গন্তব্য হিসেবে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ইতোমধ্যে মানুষের নজর কেড়েছে। সেই তালিকায় দ্রুত পরিচিতি পাওয়া একটি নাম উৎমা চরা। বিশেষ করে জিরো পয়েন্টকেন্দ্রিক এই পর্যটন এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
তবে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই এখন দেখা দিয়েছে উদ্বেগের কালো ছায়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটনের আড়ালে উৎমা চরায় বাড়ছে মাদকসেবীদের আনাগোনা। বিভিন্ন সময় তরুণ-তরুণীদের প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে মাদক সেবন করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের ভাষ্য, বিশেষ করে মদ সেবনের প্রবণতা চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়দের দাবি, ছুটির দিন এবং বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উৎমা চরায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। এ সময় বিভিন্ন দল নির্জন স্থানে অবস্থান নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব দলের মধ্যে কেউ কেউ মাদক সেবন করেন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের স্বাভাবিক বিনোদন ও নিরাপদ পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু মাদক সেবন নয়, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদক সরবরাহ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহ করে থাকতে পারে। পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে মাদক সরবরাহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, উৎমা চরা এখনো বিকাশমান একটি পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গেলে এটি সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু শুরুতেই মাদক সেবন ও সরবরাহের অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে পর্যটনকেন্দ্রটির ভাবমূর্তিতে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, মাদকের এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে একসময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত উৎমা চরা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। এতে পর্যটন সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় উৎমা চরায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, মাদকবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে এমন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল আরও বলছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয় পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদেরও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও নিয়মিত তদারকিও জরুরি।প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা উৎমা চরাকে ঘিরে স্থানীয়দের স্বপ্ন অনেক। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মাদকের ছায়া থেকে মুক্ত থাকবে এই পর্যটনকেন্দ্র।নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই জনপদ যেন মাদকের কারণে পরিচিত না হয় এটাই এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি। তাদের প্রত্যাশা, সময় থাকতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে উৎমা চরাকে গড়ে তোলা হবে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবারবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে।