সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল্যবান জমি জবর দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি দখলদার চক্র বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ঘটনায় গত ১২ মার্চ ২০২৬ স্থানীয় এলাকাবাসী ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সালে গ্রামের ১২ জন দাতা ব্যক্তি রেজিস্ট্রি কবালা (দলিল নং-৬৪৫০) মূলে বিদ্যালয়ের নামে জমি দান করেন। পরবর্তীতে ওই জমি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের পক্ষে তৎকালীন জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হয়ে আসছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ জমির সীমানা নির্ধারণের আবেদন করা হলে, ৩১ জানুয়ারি সরকারি সার্ভের মাধ্যমে সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়। এর পরপরই একটি কুচক্রী মহল জমির অংশবিশেষ দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে দক্ষিণ কুর্শী গ্রামের মৃত হারিছ আলীর পুত্র সুরুজ আলম জয়নাল, মৃত ফয়াজ আলীর পুত্র আব্দুর রাজ্জাক এবং মৃত আয়াজ আলীর পুত্র আব্দুল হামিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমির তপসিল অনুযায়ী মৌজা কুর্শী দক্ষিণ, জে.এল নং-৪২৭, খতিয়ান নং-০২, দাগ নং-৪৭৫, ৪৭৬ ও ৪৭৭ (হাল-৭২৬) এর আওতাধীন জমির একটি অংশ বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ের সংলগ্ন সরকারি খাস জমি (দাগ নং-৪৮২), যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেটিও দখলের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আব্দুল হামিদ অবৈধভাবে অটো রাইস মিল, লাকড়ি মিল ও মসলা মিল স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব মিল থেকে ধানের ধুলা ও মসলার গুঁড়া ছড়িয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ১০০ শতক জমির একটি বড় অংশ এখনও অবৈধ দখলে রয়েছে। দ্রুত দখলমুক্ত না করলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা বিদ্যালয়ের সকল জমি দ্রুত দখলমুক্ত করা, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।