নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাই ও ভিসা প্রতারণা চক্রের কথিত মূল হোতা মোঃ কুরবান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি)পুলিশ।প্রতারণা,অর্থ আত্মসাৎ এবং সাইবার অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ।
গ্রেপ্তারকৃত কুরবান আলী কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৌদ্ধপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সৈয়দপুর থানায় কুরবান আলীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।মামলাটি এফআইআর নং-১১ এবং জিআর নং-২৭৪/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ১৮(২)(গ),২১(২),২২(২),২৪(২)ও ২৭(২)(১)ধারায় ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে।পাশাপাশি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪১৭,৪০৬,৪২০,৩৪২ ও ৫০৬ ধারায় প্রতারণা,বিশ্বাসভঙ্গ,অর্থ আত্মসাৎ,অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতলুবর রহমান জানান,অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে কুরবান আলীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান,মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধের ধরনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বিদেশগমন,থাই ভিসা এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।