1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
তারেক রহমান ও আগামীর বাংলাদেশ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সাভারে লাইসেন্সবিহীন ভেজাল পশু ওষুধ কারখানা: তথ্য সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ধুনটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৎস্যজীবী দলের আনন্দ মিছিল মাদক-জুয়া-কিশোর গ্যাং রুখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান- উপ-পুলিশকমিশনার বেল্লাল হোসাইন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভা  নগরকান্দায় বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন পঞ্চগড়ে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৫০ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রশিবির ‎সিংগাইরে আবিদুর রহমান খান রোমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ফেনী সদর উত্তর ফতেপুরে গাছ কাটায় বাধা দেওয়ায় মা-মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ ফটিকছড়িতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৩ মাদকসেবী আটক, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড কাশিয়ানীতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি, দুই যুবক আটক

তারেক রহমান ও আগামীর বাংলাদেশ

reporter ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ
calendar প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৫২ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করে। একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী ও সংগঠিত বিরোধী শক্তি অপরিহার্য- এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন স্বাগত জানানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

গত প্রায় ১৭-১৮ বছর তিনি দেশের বাইরে থাকলেও বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা, আন্দোলনের দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন এবং সেই সঙ্গে একটি পরিকল্পনাভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত কর্মসূচি সেই ধারাবাহিক চিন্তারই প্রতিফলন।

তারেক রহমানের রাজনীতির একটি ইতিবাচক দিক হলো- তিনি আবেগনির্ভর বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকট মোকাবিলায় প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের ধারণা ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার পথ দেখায়।

একই সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবনায় পরিকল্পনার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তথ্যভিত্তিক ও কাঠামোগত করার কথা বলেছেন। দেশের চার কোটি পরিবার ও দেড় কোটি কৃষককে পরিকল্পিত সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন টেকসই করার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তাঁর বক্তব্য আগামীর বাংলাদেশ গঠনে মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে। প্রাথমিক শিক্ষায় জোর, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তিকে দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে হলে যে মানবিক বিনিয়োগ অপরিহার্য- তারেক রহমানের বক্তব্যে সেই উপলব্ধি স্পষ্ট।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর রাজনৈতিক আচরণ ও বার্তা। দেশে ফেরার দিন কোনো ধরনের জনসমাগম বা আনুষ্ঠানিকতা না করার অনুরোধ দায়িত্বশীল রাজনীতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি নয়, শৃঙ্খলা ও সংযমের রাজনীতিই যে আগামীর বাংলাদেশে প্রয়োজন- এই বার্তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী- উভয় পক্ষের শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। তারেক রহমানের দেশে ফেরা সেই ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সুস্থ ধারায় ফিরবে এবং জনগণের সামনে বিকল্প নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে।

আগামীর বাংলাদেশ কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বে নয়, বরং পরিকল্পনা, প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে। তারেক রহমানের ঘোষিত রূপরেখা ও রাজনৈতিক অবস্থান সেই পথের একটি সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা দেয়। এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

গণতন্ত্রের স্বার্থেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে আমরা একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে চাই- যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নীতিতে, পরিকল্পনায় ও রাষ্ট্র গঠনের দৃষ্টিভঙ্গিতে। এই প্রতিযোগিতাই আগামীর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com