রোগমুক্তির আশায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখন ছারপোকার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেডে ছারপোকার ভয়াবহ উপদ্রব দেখা দেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গত বুধবার (৩ জুন ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে মহিলা ওয়ার্ডে ২৩ জন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৫ জন, বেড ছাড়া অতিরিক্ত ৪ জন এবং শিশু ওয়ার্ডে ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
রোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় তুলনামূলক কম দেখা গেলেও রাত হলেই বেডজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ছারপোকা। ফলে রোগীরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেকের শরীরে কামড়ের দাগ, চুলকানি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে।
ভাবিচা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসার জন্য আসা তাপস নামে এক রোগী বলেন, সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু ছারপোকার কামড়ে রাত কাটানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি এখন নতুন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মান্দা উপজেলার আলালপুর থেকে আসা আলমগীর নামে আরেক রোগী জানান, ওয়ার্ডগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগ করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন থেকে আসা এক ৭বছের শিশুর অভিভাবক বলেন, “দুই দিন আগে আমার সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বেডে এত বেশি ছারপোকা যে সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। অসুস্থ শিশুর জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর।”
পাঁড়ইল ইউনিয়ন থেকে ২ দিন আগে আসা আর একটি শিশুর অভিভাবক বলেন, আমরা বড় মানুষ যারা আছি কোন রকম রাত পার করি কিন্ত ছোট বাচ্চা রাতে ঘুমের ঘরে চিৎকার দিয়ে কান্না করে ছারপোকার কামড়ে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যেখানে মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে, সেখানে যদি ছারপোকার আক্রমণে রাত কাটাতে হয়, তবে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের জন্য ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ভর্তি রোগীরা দ্রুত ছারপোকা নিধন, ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং আক্রান্ত বেডগুলো পরিবর্তন বা জীবাণুমুক্ত করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল নাহিদ পবিত্র বলেন, আগে তো ছারপোকা ছিল না। যদি থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।