গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা রেঞ্জের বারুইপাড়া বিটের আওতাধীন বনাঞ্চলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বন প্রহরীর বিরুদ্ধে।
৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সিন্ডিকেট করে বনের জমি দখলের এই মহোৎসব চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ৫ই আগস্টের পর বারুইপাড়া বিটে কর্মরত ছিলেন বিট অফিসার মহিদুল ইসলাম জয়। সেই সময় বন প্রহরী নূর মোহাম্মদ এবং বিট অফিসার মিলে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তোলার অনুমতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে শাহাদাত হোসেন বনি বিট অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও তার চোখ ফাঁকি দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে থেকে বনের জমিতে অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণ আরও জোরদার হয়।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিটের আওতাধীন হাবিবপুর ও উলুসারা গ্রামে ধারসে চলছে এই অবৈধ দখলদারিত্ব। স্থানীয় একলাছ মিয়া, ইসমাইল হোসেন, শরিফ মিয়া এবং মিলন মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বনের জমিতে ঘরবাড়ি তোলার সুযোগ করে দিয়েছেন বন প্রহরী নূর মোহাম্মদ।
বর্তমানে তৌহিদুল ইসলাম বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আসার পর সম্প্রতি এক সাংবাদিক ওই এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বনের জমি বরাদ্দের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বন প্রহরী নূর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালান এবং লাঞ্ছিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে
বিট অফিসার তৌহিদুল ইসলামের সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি, আমাকে দুই-একদিন সময় দিন।” একই সাথে নূর মোহাম্মদের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যতগুলো অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিট অফিসার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে অভিযুক্ত বন প্রহরী নূর মোহাম্মদের দাপট ও অনিয়ম আরও বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বন প্রহরী নূর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। চন্দ্রা রেঞ্জ ও জেলা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।