1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
গোদাগাড়ীতে আমনের সবুজ সমারোহ, কৃষকের স্বপ্নে নতুন আশার আলো - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
রামগঞ্জে মানবিক কর্মকাণ্ডে ভোলাকোটে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন মাঈনউদ্দিন মোল্লা ভুট্টু ধুনটে বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে প্রেরণের আবেদন তালাশ টিমের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ারের সংবাদ সম্মেলন ও তীব্র প্রতিবাদ অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে বাউফলে মোবাইল কোর্টে ৩ জনকে জরিমানা ৫২ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি চনপাড়া অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস উল্টে ১০ থেকে ১৫ জন আহত বাকেরগঞ্জের কৃতী সন্তান ইসরাইল হাওলাদার অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি, আনন্দে এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁও চান্দের হাট ও চান্দুরিয়া ৪২ বিজিবি কর্তৃক মাদকসহ আসামি আটক দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন যৌতুক লোভী সৈনিক স্বামীর পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিত হত্যার বিচার সুষ্ঠু তদন্ত ও ফাঁসির দাবিতে গোবিন্দগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

গোদাগাড়ীতে আমনের সবুজ সমারোহ, কৃষকের স্বপ্নে নতুন আশার আলো

reporter নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী
calendar প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চলতি আমন মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দেখা দিয়েছে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠে বেড়ে উঠছে আমন ধান। ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কোথাও আগাছা পরিষ্কার, কোথাও জমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, আবার কোথাও ধানের গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষি। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় কৃষিনির্ভর এই জনপদে এখন বিরাজ করছে কর্মচাঞ্চল্য ও আশাবাদের আবহ।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীতে ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর জমিতে আমন এবং ১২ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। আমন ও আউশ মিলিয়ে ৩৬ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ গোদাগাড়ীর কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বিস্তৃত পরিসরকে তুলে ধরছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আমনের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। সময়মতো জমির পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার এবং ধানের গাছের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা। কৃষকদের প্রত্যাশা, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং নিয়মিত পরিচর্যা অব্যাহত রাখা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

আমন আবাদকে ঘিরে কৃষকদের পাশে থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। ফসলের আবাদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। আবাদে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করে করণীয় সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ফসলের পরিচর্যা ও চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

দেওপাড়া ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামের কৃষক মো. গোলাম নবী ৯ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। বড় পরিসরে চাষাবাদ করা এই কৃষক বলেন, এবার জমিতে আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। ধানের পরিচর্যা ঠিকভাবে করতে পারলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

গোলাই গ্রামের কৃষক মো. হুমায়ুন কবির ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বড় পরিসরে আমন আবাদ করেছেন। জমির ধানের বর্তমান অবস্থা ভালো। শেষ পর্যন্ত পরিচর্যা ঠিকভাবে করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

একই গ্রামের কৃষক মো. মজিবুল ইসলাম ৩ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তিনি জানান, জমিতে ধানের অবস্থা ভালো থাকায় ফলন নিয়ে আশাবাদী। সময়মতো পরিচর্যা করতে পারলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। ধামিলা গ্রামের কৃষক মো. মনিরুল ইসলাম ৬ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধানের পরিচর্যা ঠিকমতো করা গেলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।

কৃষকদের এই আশাবাদ শুধু একটি মৌসুমি ফসলের প্রত্যাশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমনের ফলনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের পরিবারের প্রয়োজন, কৃষিতে পরবর্তী বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ধানের উৎপাদন ভালো হলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারসহ কৃষিনির্ভর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে।

গোদাগাড়ীতে আমনের পাশাপাশি আউশেরও ব্যাপক আবাদ হয়েছে। দুই মৌসুমের ধান উৎপাদন মিলিয়ে উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ধানের গুরুত্ব স্পষ্ট। কৃষকের শ্রম, জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শ একসঙ্গে কার্যকর হলে উৎপাদনের সম্ভাবনাও আরও বাড়তে পারে।

তবে ফসল ঘরে ওঠার আগ পর্যন্ত কৃষকদের সামনে রয়েছে আবহাওয়া ও ফসলের সার্বিক পরিচর্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে জমিতে ধানের অবস্থা ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা অব্যাহত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কৃষকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সবুজে মোড়া গোদাগাড়ীর মাঠ এখন কৃষকের শ্রম ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। বিস্তীর্ণ জমিতে আমনের আবাদ, কৃষকের নিরলস পরিশ্রম এবং উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন কৃষকের অপেক্ষা ফসলের পরিপূর্ণ বিকাশ ও নিরাপদে তা ঘরে তোলার।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, “গোদাগাড়ীতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকেরা যাতে সঠিকভাবে ফসলের পরিচর্যা করতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে আবাদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকেরা সঠিকভাবে পরিচর্যা অব্যাহত রাখলে এবার আমনে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com