1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  4. mstkfofa@gmail.com : Nx fhqt8p : Nx fhqt8p
  5. wpsvc_fkmdmu@gmail.com : wpsvc_fkmdmu :
  6. xtw18387+1aaa@outlook.com : xtw183871aaa :
৫২ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি চনপাড়া অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
তাঁর দিয়ে বাঁধা নদী রক্ষা বাঁধ-ঝুঁকিতে নাটোরবাসী লক্ষ্মীপুরে সাংসদের সাথে ফুলেল শুভেচছা বিনিময় করলো ছাত্র অধিকার পরিষদ পটিয়াবাসীকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শুভেচ্ছা জানালেন আলাউদ্দিন সারিয়াকান্দিতে সোলারতাইড় রাজমিস্ত্রি কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন রাজশাহীতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ফুলেল শুভেচ্ছা এমপি মিলনের রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর সফল অভিযানে ০১টি সিংগেল সুটার পিস্তল ও ০১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার ১৬ বিদেশি মিশনের আহ্বান- রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ জরুরি বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর লোভে বোনকে প্রাননাশের হুমকী, ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ডিমলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন জুলুম করে কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না: আলী হাসান উসামা

৫২ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা হয়নি চনপাড়া অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের

– ১২৬ একর ওয়াসার জমিতে গড়ে ওঠা জনপদে স্থায়ী ভূমি-অধিকারের অপেক্ষায় কয়েক প্রজন্ম; স্থানীয়দের দাবি, বাসিন্দা প্রায় এক লাখ

reporter ফোজিত শেখ বাবু
calendar প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র। নামের সঙ্গে ‘পুনর্বাসন’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও এখানকার মানুষের সেই পুনর্বাসন যেন পাঁচ দশকের বেশি সময়েও পূর্ণতা পায়নি। প্রায় ৫২ বছর ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন হাজারো পরিবার। এখানে জন্মেছে দ্বিতীয়, তৃতীয়—এমনকি পরবর্তী প্রজন্মও। অথচ আজও অনেক বাসিন্দার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—“এই মাটি কবে আমাদের স্থায়ী ঠিকানা হবে?”

১৯৭৪ সালে নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নানা কারণে ঘরবাড়ি ও জমি হারানো অসহায় ভূমিহীন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানুষকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এই জনপদের যাত্রা শুরু হয়। ঢাকার মোহাম্মদপুর , মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমানভাবে বসবাসকারী এবং পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি কোয়ার্টারে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের স্থায়ী পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে চনপাড়ায় নিয়ে আসা হয় বলে স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি।

ঘরবাড়ি ছাড়া ধুধু বালুরচরে শুরু হয়েছিল বেঁচে থাকার লড়াই আজকের ঘনবসতিপূর্ণ চনপাড়ার সঙ্গে সেই সময়ের চনপাড়ার কোনো তুলনাই চলে না। প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিতে তখনকার চনপাড়া ছিল অনেকটাই ধুধু বালুরচর—ছিল না বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, বসবাসের উপযোগী ঘরবাড়ি, পয়ঃনিষ্কাশন কিংবা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা।

প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারকে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে এখানে নতুন জীবন শুরু করতে হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।কাজ ছিল না, খাবারের নিশ্চয়তা ছিল না। অনেক পরিবারকে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়েছে শুধু বেঁচে থাকার জন্য। প্রবীণদের বর্ণনায় উঠে আসে সেই কঠিন সময়ের করুণ চিত্র—কেউ আশপাশের গ্রাম থেকে ভিক্ষা করে আনা খাবার খেয়ে দিন কাটিয়েছেন, কেউ কুড়িয়ে আনা শাক-লতাপাতা রান্না করেছেন। কেউ কম দামে সংগ্রহ করেছেন চালের ফেলে দেওয়া কালো খুদ; এমনকি গমের ভুসি খেয়েও জীবন ধারণের চেষ্টা করেছেন অনেকে।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনাহার, অপুষ্টি ও রোগে তখন নিয়মিত মানুষের মৃত্যু ঘটত। মৃতদের দাফনের ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত সীমিত। কখনো কচুপাতা, পুরোনো কাপড় কিংবা পলিথিনে মরদেহ মুড়িয়ে মাটিচাপা দিতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কনসার্ন, ওয়ার্ল্ড ভিশন, বিভিএস, অক্সফামসহ বিভিন্ন বেসরকারি ও দাতা সংস্থা এই জনপদের মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাদের বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চনপাড়ার মানুষের জীবনযাত্রায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে। ১২৬ একর জমিতে গড়ে উঠেছে বিশাল জনপদ ১৯৭৪ সালে ঢাকা ওয়াসার প্রায় ১২৬ একর জমির ওপর অস্থায়ী চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। শুরুতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারকে ট্রাকে করে পূর্ণবাসনের আশ্বাস দিয়ে এনে এখানে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

কিন্তু অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভূমির স্থায়ী মালিকানা বা বন্দোবস্তের বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি—এমন অভিযোগ এখানকার বাসিন্দাদের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই জায়গায় বসবাস করলেও স্থায়ী ভূমি-অধিকারের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক পরিবার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত ও টেকসই বাড়িঘর নির্মাণ করতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা রয়েছে, অন্যদিকে পুরো জনপদের দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

নদী-খালবেষ্টিত এক স্বতন্ত্র জনপদ চনপাড়ার ভৌগোলিক অবস্থানও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের। শীতলক্ষ্যা ও বালু নদ এবং গোদা খালবেষ্টিত এলাকাটি অনেকটা দ্বীপের মতো।পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর পর ধীরে ধীরে এখানে বসতি বিস্তৃত হয়েছে। প্রথম প্রজন্মের পুনর্বাসিত মানুষের সন্তান, নাতি-নাতনি এবং পরবর্তী প্রজন্মের বড় একটি অংশ এখন এই জনপদেই বেড়ে উঠেছে।আজ চনপাড়া আর শুধু একটি ‘অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নয়; এটি একটি বিশাল ও কর্মচঞ্চল জনপদ।

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে এখানে প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাস। তবে বর্তমান জনসংখ্যার সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান সহজলভ্য না থাকায় প্রকৃত জনসংখ্যা নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি জরিপের প্রয়োজন রয়েছে। ভোটার ১৮ হাজারের বেশি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের ভোটার এবং রাষ্ট্রীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার অংশ।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভোটারের সংখ্যার তুলনায় চনপাড়ার মোট জনসংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। শিশু-কিশোর, ভোটার হওয়ার বয়স হয়নি এমন তরুণ-তরুণী এবং অন্যান্য বাসিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করলে জনসংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

তাই চনপাড়ার মোট জনসংখ্যা, পরিবারসংখ্যা, ভোটার, স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দা এবং আর্থসামাজিক অবস্থার সঠিক চিত্র পেতে একটি হালনাগাদ সরকারি জনসংখ্যা ও পরিবারভিত্তিক জরিপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওয়াসার জমি, বিশ্বব্যাংক ও পানি প্রকল্পের পুরোনো প্রশ্ন চনপাড়ার ভূমি-অধিকারের আলোচনার সঙ্গে ঢাকা শহরের পানি সরবরাহের একটি পুরোনো পরিকল্পনার কথাও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে আসে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকাবাসীর পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় তৎকালীন সময়ে এ এলাকায় একটি পানি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তীতে মাটি পরীক্ষার পর পানি শোধনাগার নির্মাণের জন্য এলাকাটি উপযুক্ত নয় বলে বিবেচিত হওয়ায় পরিকল্পনাটি আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের আরও দাবি, জমি হস্তান্তরের সময় মূল মালিকদের সঙ্গে এমন শর্ত ছিল যে, নির্ধারিত পানি প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলে যে মূল্যে জমি নেওয়া হয়েছিল, সেই মূল্যেই জমি ফেরত দেওয়ার বিষয় বিবেচিত হবে।

তবে এ দাবির ঐতিহাসিক ও আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দলিল, ভূমি অধিগ্রহণের নথি, ওয়াসার রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দলিলপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ভূমি-অধিকার প্রশ্নের স্থায়ী সমাধানে এসব নথি জনসমক্ষে এনে একটি স্বচ্ছ ও আইনসম্মত পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু পরিকল্পিত নগরায়ণ এখনো দূরে পাঁচ দশকে চনপাড়ার চেহারা অনেকটাই বদলেছে। মানুষের নিজস্ব প্রচেষ্টা, সরকারি উদ্যোগ এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

তারপরও বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমির স্থায়ী মালিকানা বা বন্দোবস্তের বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।রাস্তা, ড্রেনেজ, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত আবাসনসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলোকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আনার দাবি দীর্ঘদিনের।

এক বাসিন্দার ভাষায়—“আমরা এখানে জন্মেছি, আমাদের সন্তানরাও এখানে জন্মেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু আজও নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না—এই জায়গাটিই আমাদের স্থায়ী ঠিকানা।”দারিদ্র্যের জনপদ থেকে শিক্ষিত ও কর্মজীবী প্রজন্ম চনপাড়াকে কেবল দরিদ্র, ভূমিহীন বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বসতি হিসেবে দেখলে এই জনপদের পাঁচ দশকের পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে না।

যে জনপদের প্রথম প্রজন্মকে একসময় খাবার ও আশ্রয়ের জন্য লড়াই করতে হয়েছে, সেই জনপদ থেকেই আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উঠে এসেছেন। এটি চনপাড়ার সামাজিক পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চনপাড়ার সন্তানদের মধ্যে পিএইচডিধারী ও পিএইচডি গবেষণারত একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। কেউ কেউ দেশ-বিদেশের গবেষণা প্রকল্পেও দায়িত্ব পালন করছেন। পদার্থবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত ব্যক্তিও রয়েছেন।

চিকিৎসা পেশায়ও চনপাড়ার নতুন প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, এখান থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন চিকিৎসক তৈরি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফেরদৌস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. সুমাইয়া জেবিন এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাহিরাসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, চনপাড়া থেকে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক প্রকৌশলী এবং সাত শতাধিক শিক্ষক,
তাহারা সচিবালের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহ বাংলাদেশ আর্মি পুলিশ বিডিআর ও বিভিন্ন সরকারি অফিস আদালতে কর্মরত আছেন এলাকার ৭ শত বাসিন্দার, এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবী তৈরি হয়েছেন।

সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্র সাংবাদিকতায়ও চনপাড়ার সন্তানদের অবদান রয়েছে। তাদের মধ্যে সুপরিচিত ফটোসাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবু এবং প্রয়াত ফটোসাংবাদিক রেহেনা আক্তারসহ আরও অনেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

তবে পেশাজীবীদের এসব সংখ্যা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্য ও বাসিন্দাদের দাবির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হচ্ছে। কোনো হালনাগাদ সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক তালিকা না থাকায় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপের মাধ্যমে চনপাড়া থেকে উঠে আসা শিক্ষিত ও পেশাজীবীদের সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে স্বপ্ন চনপাড়ার প্রথম প্রজন্ম লড়াই করেছে খাবার ও আশ্রয়ের জন্য। দ্বিতীয় প্রজন্ম লড়াই করেছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য। আর বর্তমান প্রজন্ম চায়—নিরাপদ আবাসন, উন্নত নাগরিক সুবিধা এবং নিজের বসতভিটার আইনগত স্বীকৃতি। এই পরিবর্তনই গত ৫২ বছরে চনপাড়ার সবচেয়ে বড় অর্জন।এক সময় যে পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের সন্তানদের কেউ আজ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক কিংবা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা।

তবুও একটি প্রশ্ন এখনো তাদের পিছু ছাড়েনি—নিজেদের বসতভিটার স্থায়ী অধিকার কবে মিলবে? ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান চান চনপাড়াবাসী ১৯৭৪ সালে ‘অস্থায়ী পুনর্বাসন’-এর মাধ্যমে যে জনপদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই জনপদের মানুষের প্রধান দাবি—স্থায়ী ঠিকানা, ভূমির আইনগত অধিকার এবং পরিকল্পিত নাগরিক সুবিধা।

চনপাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সরকার প্রায় ১২৬ একর জমির বর্তমান মালিকানা, দখল, বন্দোবস্ত, পূর্ববর্তী অধিগ্রহণ বা হস্তান্তরের শর্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারের আইনগত অধিকার পর্যালোচনা করে একটি স্বচ্ছ, মানবিক ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে। তাদের দাবি, এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ঢাকা ওয়াসা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার এবং বাসিন্দাদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনা করা যেতে পারে।

পাশাপাশি চনপাড়াকে একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসিক জনপদে রূপান্তরের জন্য রাস্তা, ড্রেনেজ, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের কাছে চনপাড়াবাসীর প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই মানবিক ও ভূমি-অধিকারসংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন।

কারণ ৫২ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর প্রশ্নটি খুবই সরল— “যে মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য এখানে আনা হয়েছিল, তাদের পুনর্বাসন কি ৫২ বছরেও শেষ হয়নি?”

পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে চনপাড়ার মানুষের হাতে একটি নিরাপদ, আইনগতভাবে স্বীকৃত, স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ ঠিকানা তুলে দেওয়া হবে—এটাই এখন এই জনপদের কয়েক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com