কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টানা তৃতীয় দিনের মতো তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে সীমান্ত-সংলগ্ন একটি পাটখেতে অবস্থান করছেন। পরিচয় যাচাই ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। বিজিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এর পর থেকে তারা কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাবপিলার-সংলগ্ন শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশ ইনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, ওই ১২ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করতে হবে। পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হওয়ায় নারী ও শিশুসহ ওই ১২ জনকে আরও একটি রাত খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত তাদের সীমান্তবর্তী পাটখেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাত ও রোববার ভোরে দৌলতপুর সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশ ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি জানায়, প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে কাউকেই সীমান্ত অতিক্রম করানো সম্ভব হয়নি। রোববার ভোরে মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া বিওপির আওতাধীন ৮৫/১৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকায় আবারও একজনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ তাঁকে পুনরায় নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘বিজিবি কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না। সীমান্তে অবস্থানরত ১২ জন এখনো ভারতীয় ভূখণ্ডেই রয়েছে। রোববার ভোরেও পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হলে তা প্রতিহত করা হয়েছে।’রাশেদ কামাল আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’