ময়মনসিংহের সীমান্তঘেঁষা হালুয়াঘাট উপজেলার গ্রামগুলোতে একসময় মুষলধারে বৃষ্টি নামলেই চারদিকে জমে উঠত গ্রামীণ খেলাধুলার উৎসব। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার খোলা মাঠে কিংবা ঘরের বারান্দায় ছাতার নিচে বৃষ্টির শব্দ আর উৎসবমুখর আমেজে মেতে উঠত কিশোর ও যুবকেরা। এই অঞ্চলে বৃষ্টির দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘ডাবা’ খেলা।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই চেনা দৃশ্য এখন সম্পূর্ণ অতীত। ঐতিহ্যবাহী ডাবা খেলা তো দূর, এখন বৃষ্টির দিনে গ্রাম্য মাঠে কিশোরদের কোলাহলও আর চোখে পড়ে না।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও ইন্টারনেট যুগের প্রভাবে পরিবর্তন এসেছে গ্রামীণ জীবনযাত্রায়। শারীরিক খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদন থেকে বহু দূরে সরে গেছে স্থানীয় তরুণ সমাজ। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো— ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং সুস্থ বিনোদনের অভাবকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত এলাকার একশ্রেণির যুবসমাজ জড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক অপরাধচক্রে।
সীমান্তের একাধিক বাসিন্দা জানান, খেলাধুলা ছেড়ে এখন অলিতে-গলিতে ও সীমান্তবর্তী নির্জন স্পটগুলোতে কিশোর ও যুবকদের আড্ডা বসে। এই আড্ডা থেকেই অনেক তরুণ জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবন এবং সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদক বেচাকেনার মতো অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে। ফলে দিন দিন বেড়ে চলেছে সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ছাবল থেকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে তাদের সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার দিকে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন পুনরুজ্জীবিত করা এবং সীমান্তে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।