বরিশালের আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীয়তার মধ্য দিয়ে ৩২ প্রহর (৪দিন ব্যাপী) শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান (কীত্তন) বুধবার ভোর রাতে শেষ হবে,বাৎসরিক কীত্তনে সকল বয়সের নারী পুরুষসহ সনাতন ধমালম্ভীদের ঢল নেমেছে।
উপজেলা সদরের শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে গত ১৪ জুন রবিবার থেকে ১৭ জুন বুধবার ভোররাত পযন্ত বিরতিহিন ভাবে এই ধমীয় অনুস্ঠান চলবে (৪দিন) ৩২ পহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান (কীত্তন) পরিবেশন হয়ে আসছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সনাতন ধমালম্ভী সকল বয়সের হাজার-হাজার নারী-পুরুষ সকাল থেকে গভীর রাত পযন্ত কীত্তন শ্রবণ করছেন।
এ বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কীর্তন পরিবেশনের জন্য এসেছে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ সম্প্রদায় (খুলনা) গীতাঞ্জলী সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ) শ্রী শ্রী ব্রজের গোপাল সম্প্রদায় (সাতক্ষীরা) প্রভু মন্দির সম্প্রদায়( মাদারীপুর) লক্ষী নারায়ন সম্প্রদায়(গোপালগঞ্জ) ও ব্রজ বিন্দাবন সম্প্রদায় (বরিশাল) প্রতিযোগিতা মূলক স্ব-স্ব কীত্তন দল ভক্তদের নিবেদনে তাদের নৈপুণ্য পরিবেশন করছেন।
জানাগেছে ১৯৮০ সালে মন্দিরের উত্তর পাশের পুকুর খননকালে কস্টি পাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি পাওয়ার পর এই মন্দির স্থাপিত করে পূজা অর্চনা শুরু করে, এরপর থেকে প্রতিবছর ২৪ পহরব্যাপী(৩দিন) মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান কীত্তন পরিবেশন হয়ে আসছে। শ্রী শ্রী বিষ্ণুম মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পুরোহিত সঞ্জয় কুমার দাস ২০১৫ সালে মৃত্যু বরন করলে তার পুত্রদ্বয় বাৎসরিক ২৪ প্রহর ৩ দিনের সাথে সঞ্জয় দাসকে উৎসর্গ করে বাৎসরিক কীর্তনের সাথে ১ দিনের কীত্তন বৃদ্ধি করে গত ১১ বছর যাবত ৩২ প্রহরব্যাপী(৪দিন) হয়ে আসছে।
মন্দিরে আগত ভক্তবৃন্দের জন্য প্রতিদিন তিনবেলা রান্না করা প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে, এছাড়াও প্রতিদিনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা শেষে ভক্তবৃন্দের মাঝে রান্না করা প্রসাদ পরিবেশন করে আসছে।
স্থানীয়দের পাশাপাশি দুর-দুরান্তের লোকজন ঈশ্বরের কৃপা লাভের জন্য এই মন্দিরে মানত করে আরোগ্য লাভ করে পূজা অর্চনা করে আসছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর রোডে কলেজ সংলগ্ন শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে ৪দিনব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান (কীত্তন) উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী স্থানে বিভিন্ন দোকানে পরশা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক আগমনে মন্দির আঙিনার পার্শ্ববর্তী সড়ক ও স্থানগুলোতে ভক্তবৃন্দের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
কীত্তন শুনতে এসে ৬০ বছরের বৃদ্ধা কাঠিরা গামের শেফালী বাড়ৈ জানান প্রতিবছর কীর্তনের অপেক্ষায় থাকি ৪দিন শেষ হলে প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরবো। পশ্চিম সুজনকাঠি গ্রামের ভক্ত ভক্ত সৈকত মন্ডল দিপু জানান সার্বক্ষণিক মন্দিরের কাজেই আছি, মন্দিরে ভক্তবৃন্দের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছি, নিজের পরিবারকে কীত্তনে আনতে সময় দিতে পারছি না।
স্বর্গীয় সঞ্জয় দাসের ছেলে বাকাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কীত্তন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিপুল দাস জানান মন্দরটি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় ভক্তবৃন্দ ও পথচারী ঝুঁকির মধ্যে থাকে মন্দিরে ভক্তবৃন্দ যাতে কীত্তন শ্রবণ করে নিরাপদে ফিরতে পারে সেই প্রার্থনা করছি।আগৈলঝাড়া শ্রী শ্রী বিষ্ণুমন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী প্রফুল্ল সরকার বলেন ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান কীত্তন পরিবেশন হয়ে আসছে, মন্দিরে আগত সকল ভক্তবৃন্দের জন্য ঈশ্বরের কাছে নিরাপদ ও সুস্থ জীবন কামনা করছি।