ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানার কালেশ্বরগাঁও গ্রামে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিচারাধীন অবস্থায়ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১০ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কালেশ্বরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ চন্দ্র বর্মণ (৫০)। তিনি মৃত দীননাথ বর্মণের ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন— মো. আইনুল ইসলাম (৬২), মো. আমির হোসেন (৪৫), মো. অঞ্জু হোসেন (৪২), বিপুল হোসেন (৩৫), আবেদুর হোসেন (২৬), নিরব হোসেন (২২), মোছা. জহরা বেগম (৪০), মোছা. শাহানাজ বেগম (৩৫), মোছা. আছিয়া বেগম (২৭), মোছা. নূর বানু (২৫) এবং মোছা. বেবী আক্তার। মামলার নথি অনুযায়ী, সকল অভিযুক্তের বাড়ি সদর উপজেলার কালেশ্বরগাঁও গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি কালেশ্বরগাঁও মৌজার জে.এল. নং-৫২, খতিয়ান নং-৬০ এবং দাগ নং-১৫৩-এর অন্তর্ভুক্ত, যার মোট পরিমাণ ৬৩ শতক। বাদীর দাবি, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ওই জমি তিনি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওই জমিতে আউশ ধানের চারা রোপণ করতে গেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে চাষাবাদে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এব্যাপারে জগদিশ চন্দ্র বলেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা আইন অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন গাছপালা কেটে ফেলেছেন। আরও জানাযায়, অভিযুক্ত বিপুল হোসেন স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি ও অন্যান্য অভিযুক্তরা বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাদীর দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। এতে তিনি জমি ভোগদখল ও চাষাবাদে বাধার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।