রাজশাহীর সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় সাত চোর ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।গ্রেপ্তার সাত চোরের একজনকে খুলনা এবং অপর ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিউল চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোরচক্র সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা তৈরি করে। একপর্যায়ে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। পরে ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢুকে সিন্দুক থেকে বাদীর বর্ণনামতে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিটের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না এবং অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে। চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না। বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে তারা। প্রতিটি চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে টার্গেট করা এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং পালানোর পথও নির্ধারণ করে।
কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার কথা বলে দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায়। পরে আরএমপির কয়েকটি দল একযোগে অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে খুলনা থেকে এবং পিরোজপুর ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার স্বপন, উজ্জল, রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু, আবু তালেব, কালাম শেখ ও ইউনুসকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরএমপি জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।