ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের কলাতলা মালিগ্রামে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের পর লামিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জাবেদ বেপারী পলাতক রয়েছেন।
নিহত লামিয়া বেগম জাবেদ বেপারীর স্ত্রী। তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম আবু তুহার।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির প্রধান দরজা খোলা দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে লামিয়াকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এরপর স্থানীয়রা ভাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়দের দাবি পুলিশ সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই নিহতের স্বামী জাবেদ বেপারী এলাকা ছেড়ে চলে যান। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহতের বড় ভাই বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত বোনের বাড়িতে ছুটে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা, আর বোনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।”
নিহতের বাবা বলেন, “সকাল প্রায় ১১টার দিকে মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছি। তখন সে স্বাভাবিক ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক খবর পাব, তা কখনো ভাবিনি। আমার মেয়ের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভাঙ্গা থানার এসআই সেলিম হোসেন জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”