ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার প্রথম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সভার কক্ষে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যানার। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়া সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রুহিয়া উপজেলার ১নং রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত এই সভাকে ঘিরে প্রশাসনিক উদাসীনতা ও গোপনীয়তার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি নতুন উপজেলার প্রশাসনিক যাত্রা সুগম করা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে এই প্রথম সভাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সভার মূল কক্ষে সভার বিষয়বস্তু সংবলিত কোনো ব্যানার টাঙ্গানো হয়নি। প্রথম সভাতেই এমন অব্যবস্থাপনাকে চরম দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয় সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের প্রায় ২ ঘন্টা বাইরে অপেক্ষা করার পরও সভাকক্ষে ঢুকতে না দেওয়ায়। পেশাগত কাজে সেখানে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রায় ২ ঘন্টা বাইরে আটকে রাখা হয়। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুহিয়া উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।
উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের অভিযোগ, এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। প্রথম সভাতেই গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যাওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জানতে চাইলে রুহিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখাই যেকোনো নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের মূল শর্ত হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, চেয়ারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।রুহিয়া উপজেলার প্রথম আইন শৃঙ্খলা সভার এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি জানান স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সংবাদ সংগ্রহে আসা গণমাধ্যম কর্মীরা।