ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৫ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিক্ষার্থীর মা বাড়িতে ছিলেন না। রাতে দুই বোন পৃথক কক্ষে অবস্থান করছিল। এ সময় প্রতিবেশী এক যুবক জানালার অংশ ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দিলে আরও কয়েকজন ঘরে ঢোকে। পরে তারা জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে বাড়ির কাছেই ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খালা জানান, রাতেই স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে পেরেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন এবং তাদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অডিও বা ভিডিও বক্তব্য দিতে সম্মতি দেননি এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন।