1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
ফতুল্লায় কথিত রাইটার দালাল সহিদের ভয়াবহ প্রতারনা” এক জিডিতে ৮০ হাজার - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
নকল এপি নম্বর ও মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রি, ধুরইল বাজারে ব্যবসায়ীকে জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযান: ১০৫ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য মদ উদ্ধারসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত পিকআপ গাড়িটি জব্দ ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান বিআরটিএর ডিএনসির অভিযানে একজন গ্রেফতার পটিয়ায় নিজ গ্রামের বন্যার্তদের পাশে এগিয়ে এলো এক ঝাঁক তরুণ ও যুবক সুন্দরবনে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ ডাকাতের আত্মসমর্পণ ভাঙ্গায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ আসতেই স্বামী পলাতক চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ: তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ জব্দ, পাজেরোসহ আটক ১ রামগঞ্জ পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ফতুল্লায় কথিত রাইটার দালাল সহিদের ভয়াবহ প্রতারনা” এক জিডিতে ৮০ হাজার

reporter নিজস্ব প্রতিবেদক,
calendar প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ

থানায় একটি অনলাইন জিডি করতে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আবারো আলোচনায় এসেছে ফতুল্লা মডেল থানার প্রধান ফটক সংলগ্ন গলির ভেতরে অবস্থিত ‘শহিদ কম্পিউটার’ এর মালিক শহিদুল ইসলাম। ভুক্তভোগীর এমন একটি ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লায় সৃষ্টি হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। থানার পাশে থাকা কথিত রাইটার দালাল শহিদের এমন কর্মকান্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফতুল্লা থানার পাশে থেকে কম্পিউটারের ব্যবসার নামে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড ঘটনা ঘটার পরও কেনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা প্রশ্ন সচেতন মহলের।

ভুক্তভোগী কুতুবপুরের লামাপাড়া এলাকার মো.নুর ইসলামের ছেলে মো.ওমর ফারুকের দেয়া তথ্যসুত্রে জানা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের শিয়াচর মৌজাস্থিত সিএস ৭৯,এসএ ৫৮,২৭২ নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ও এসএ ৭০১ আরএস-৮৬৮ নং দাগে নাল জমি ১৫ শতাংশ কাতে ১০ শতাংশ জমি প্রায়  এক কোটি পচাঁত্তর লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন সাহাদাত মুন্সিগংদের মাধ্যমে। জমি ক্রয় করার পর পুনরায় মালেশিয়া চলে যান তিনি। প্রায় ১৫ দিন পর জানতে পারেন যে,জমির মালিক উক্ত জমিটি অন্য এক ব্যক্তিকে অফেরতযোগ্যভাবে পাওয়ার প্রদান করেছেন আমার কাছে জমি বিক্রির প্রায় ২ মাস পুর্বে। সংবাদ শুনে আমি মালেশিয়া থেকে পুনরায় দেশে চলে আসি এবং জমির মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফতুল্লা মডেল থানার সামনে আসি এবং শহিদ কম্পিউটারে যাই। সেখানে যাওয়ার পর দোকানের মালিক শহিদুল ইসলাম আমাকে বলেন যে,যেহেতু মালিকের গ্রামের বাড়ি চাদপুরে তাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চাদপুর থানায় যেতে হবে এবং থানায় জিডি করতে হলে ১ লক্ষ টাকা খরচ হবে। সহিদের সাথে কথা বলে সেটা ৮০ হাজারে কথা সম্পন্ন হয়। বুধবার ৮ জুলাই বিকেলে একটি প্রাইভেটকার যোগে সহিদের সাথে আমি চাদপুরের উদ্দ্যেশে রওনা হই। গাড়িতে উঠার আগে সহিদের কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং চাদপুর থানায় জিডি শেষে গাড়িতে উঠার আগে আরও ৩০ হাজার টাকা তুলে দেই সহিদের হাতে। আর যাতায়াত ও আনুসাঙ্গিক বাবদ গাড়ি ভাড়া দেয়া হয় ১০ হাজার টাকা। সেই থানায় যে জিডি করা হয়েছে তার ট্র্যাকিং নং এন.আই.এস.আই.কে.এম – জিডি নং ৫০৪( ৮/৭/২৬ইং)।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমার স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা আমাকে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠালে তিনি সহিদ কম্পিউটারের মালিক সহিদকে তার রুমে ডেকে আনেন এবং জিডি করতে কেন ৮০ হাজার টাকা নেয়া হলো। এ সময় ওসির সামনে দাড়িয়ে থাকা সহিদ কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। পরে ওসি সাহেব থানার পাশে থাকা অপর একটি কম্পিউটারের দোকানের ষ্টাফকে সংবাদ দিয়ে নিয়ে আসেন এবং আমাকে নতুনভাবে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করান। যার জিডি ট্র্যাকিং নং জে.৩সি.আর.ডবিøউ.ইউ,জিডি নং ৯৯৮ ( ১১/৭/২৬ইং)।

অনুসন্ধানে জানা যায় যে,সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ ও অনলাইন সেবার কথা লেখা থাকলেও, ভেতরে রয়েছে তার অকল্পনীয় ভিন্ন এক জগৎ। এই দোকানের আড়ালে কথিত রাইটার সহিদ নিজেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন তিনি। তার একাধিক বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য এখন পুরো থানা এলাকায় ‘দালাল শহিদ’ নামে পরিচিত।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দীর্ঘ দিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। দালাল শহিদ তার দোকানে থাই ক্লাস দিয়ে একটি পৃথক আলিশান চেম্বার তৈরি করেছেন। সেখানে দামি চেয়ারে বসে তিনি বিচারকের ভঙ্গিতে মানুষকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার ভাব করে বসে থাকেন।এদিকে ফতুল্লা মডেল থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যখন থানার ফটকে এসে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, তখনই শহিদ বা তার সহযোগীরা তাদের এই চেম্বারে নিয়ে আসেন। সেখানে নিজেকে কখনো ‘ওসি’, কখনো ‘এসপি’, আবার কখনো পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ পরিচয় দিয়ে আশ^স্ত করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, তার দোকানে অভিযোগ লিখতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ‘দারোগা’ পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং পুলিশ পাঠানোর নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তাছাড়া বেশির ভাগ সময় দালাল শহীদকে ডিউটি অফিসারের রুমে আবার কখনো অফিসার ডেক্স-এ এবং প্রায় সময়ে ওসির রুমে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে করে সাধারণ মানুষ তাকে পুলিশ ভেবে নিয়ে সহজেই তার ফাঁদে পড়ে যায়।

দালাল শহিদের প্রতারণার কৌশল অত্যন্ত সুনিপুণ ও ভয়ংকর। দুই পক্ষকেই জিম্মি করে ফাঁদে ফেলার অভিনব কৌশল, যখন কোনো ব্যক্তি অভিযোগ বা এজাহার লিখতে তার কাছে আসেন, শহিদ অত্যন্ত কৌশলে বিবাদী বা প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এরপর বাদীকে চেম্বারে বসিয়ে রেখেই গোপনে প্রতিপক্ষকে ফোন করে মামলার ভয় দেখান। গ্রেফতার এড়াতে বা মামলা থেকে নাম কাটাতে তাদের নিজের চেম্বারের সামনে আসতে বলেন এবং দূর থেকে তাদের দেখান । মূলত বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকেই অন্ধাকারে রেখে এক পক্ষকে মামলার ভয় এবং অন্য পক্ষকে আইনি সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তার প্রধান নেশা ও পেশাবলে সূত্রে জানা যায়।

৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপটে ‘এজাহার বাণিজ্য: গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শহিদের দালালি ও প্রতারণা নতুন এবং আরও ভয়ংকর ভাবে যুক্ত হয়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলা বা এজাহার লিখতে আসা সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করছেন তিনি। বাদী হয়তো এজাহারে নির্দিষ্ট কিছু নাম দিচ্ছেন, কিন্তু শহিদ তার বাইরেও অনেক স্বচ্ছ ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফোন করে বলছেন “আপনার নামে বৈষম্যবিরোধী মামলা হচ্ছে, এখনই টাকা নিয়ে আমার চেম্বারে চলে আসেন।” এভাবে শত শত নির্দোষ মানুষকে মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয় দেখিয়ে তিনি কোটিপতি বনে গেছেন। অথচ বাদী পক্ষ অনেক ক্ষেত্রে ওইসব নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম জানেনও না।

সুত্রে আরও জানা যায় যে, ফতুল্লা থানায় একটি মামলার চুড়ান্ত চার্জসিট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এজাহারভুক্ত আসামীকে বাদ দেয়ার ঘটনারও জন্ম দিয়েছিলেন এ সহিদ। বিষয়টি বাদীপক্ষের লোকজন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও জানালে তার টনক লড়ে। পরবর্তীতে চার্জসিট থেকে বাদ দেয়া সেই আসামীর সাথে পুলিশ যোগাযোগ করলে মুল কাহিনীটুকু উঠে আসে আর ভেসে উঠে সহিদের দুই নম্বরী কর্মকান্ড। সেই ঘটনায় তৎকালীন ওসি এবং উক্ত এসআইসহ থানা পুলিশের কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিল এ সহিদ। এমন অনেক অঘটনের ঘটনা রয়েছে এ কম্পোজার সহিদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহিদ কম্পিউটারের কর্নধার সহিদুল ইসলাম বলেন, আমাকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। ওমর ফারুক শিবু মার্কেট এলাকার হানিফ নামে একজনের সাথে আমার কাছে এসেছেন। এবং যে পরিমান টাকার কথা উল্লেখ করেছেন তার একটি টাকাও আমার হাতে দেয়নি। সেই টাকা থেকে আমাকে মাছ কেনার জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়েছে আর বাকী টাকা চাঁদপুর থানার ওসিকে দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com