ফরিদপুরের নগরকান্দায় সর্বজনীন মন্দিরের জায়গা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সর্বজনীন মন্দিরের সেবায়েত নারায়ণ মণ্ডল মারা যাওয়ার পর তাঁর ছেলেরা কৌশলে মন্দিরের জায়গা নিজেদের নামে ৯৯ বছরের জন্য কবুলিয়াত করে নেন। বর্তমানে তাঁরা ওই জায়গা দখলে নিয়ে বিক্রি করার পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, এটি সর্বজনীন মন্দিরের সম্পত্তি। আমরা কোনো ব্যক্তির নামে এ জায়গা আত্মসাৎ মেনে নেব না। মন্দিরের জায়গা দখলমুক্ত করে তা মন্দিরের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
মানববন্ধনে নারায়ণ মণ্ডলের ছেলে বৃন্দাবন মণ্ডল ও লিটন মণ্ডলের বিরুদ্ধে মন্দিরের জায়গা বিক্রি করে আত্মসাতের পাঁয়তারা করার অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক’সহ বিভিন্ন দাবি এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে স্লোগান লেখা ছিল।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে যান। পরে তাঁরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে তাঁদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা মন্দিরের জায়গা দখলমুক্ত করে সর্বজনীন মন্দিরের নামে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, সরকার আমাদের নিরানব্বই বছরের জন্য জায়গাটি কবুলিয়াত দিয়েছে। ওই জায়গায় আমরা একটি মন্দির স্থাপন করেছি এবং বাকি জায়গা আমরা ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি আমাদের এই জায়গা নিজেদের নামে নেওয়ার মাধ্যমে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। সরকারের জায়গা সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তা মেনে নেব। তবে কোনো অসাধু ব্যক্তিকে জায়গাটি দখল করতে দেব না।
নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাইরুল হাসান বলেন, এলাকাবাসী কবুলিয়াত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে একটি আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমার কাছে তদন্তের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।