শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় মাদকসহ আটক এক ব্যক্তির জবানবন্দিকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে স্থানীয় মুরুব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদের উদ্যোগে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আটক ব্যক্তির দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মত প্রকাশ করেন।
জানা যায়, গত ২৬ তারিখ গভীর রাতে তেওতা এলাকায় মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটকের পর উপস্থিত জনতার সামনে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। পরদিন বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় এলাকার মুরুব্বি, সমাজসেবক ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে বক্তারা বলেন, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পরিচিত। নিজেকে রক্ষা করা এবং জনরোষ থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের ধারণা।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা যুবদল কর্মী মোঃ শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ ইসমাইল, মোঃ আবির মিয়া, মোঃ রেজাউল মিয়া, মোঃ টিটু শেখ, শ্রী সঞ্জয়, যুবদল কর্মী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আলমগীর, মোঃ মিন্টু গাজী, মোঃ গনি কাজী ও মোঃ মানিক মোল্লার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ খান সম্পর্কেও আলোচনা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তার পিতা মরহুম সাইফুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় চঞ্চল মাহমুদ খানও জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাদকসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকৃত কারবারিদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তার এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা। মাদকবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও এলাকায় পরিচিত বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে আরও বলা হয়, তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এলাকার কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসা বা মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না।
সভায় উপস্থিত মুরুব্বিরা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং নির্দোষ মানুষের সম্মান রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সকলেই এই অভিযান কারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।