‘টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না’—এমন অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদ্যুৎ সহকারী প্রকৌশলী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজের বিল, ফাইল অনুমোদনসহ দাপ্তরিক কার্যক্রমে ফাইলপ্রতি অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে ফাইল আটকে রেখে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিবাদ বা কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। এমনকি এর প্রভাব পড়ে দাপ্তরিক ফাইলের গতিতেও। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিল-সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে ঠিকাদারদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তাদের নিয়মিত নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ফাইল আরও বেশি সময় আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে তারা নিয়ম মেনে কাজ করলেও দাপ্তরিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও অনৈতিক দাবির কারণে তাদের কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান।