ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার শুখানপুখুরী ইউনিয়নের অকড়াবাড়ী বাজারে সরকারি রাস্তার পাশে মাছের দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে এক মাছ ব্যবসায়ীর দোকান উচ্ছেদের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ নং শুখান পুখরী ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা দলের ইউনিয়ন সভাপতি ফাতেমা আক্তারের বিরুদ্ধে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে দোকান উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন বিকেলে অকড়াবাড়ী বাজারে সরকারি পাকা রাস্তার পাশে মাছ বিক্রি করতেন। কয়েকদিন আগে ফাতেমা আক্তার তার কাছে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে তার দোকান থেকে মাছ ও অন্যান্য সামগ্রী জোরপূর্বক লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এতে তার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল উদ্দীন জানান, দোকান থেকে মাছ ফেলে দেওয়া এবং উচ্ছেদের সময় তিনি প্রতিবাদ করলে ফাতেমা আক্তার তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন। অকড়াবাড়ী বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “সরকারি রাস্তার পাশে দোকান করতে হলে ওই মহিলাকে টাকা দিতে হবে—এমন দাবি তিনি করেন। টাকা না দিলে এখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান। আমরা বাজার সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে তিনি আমাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে শুখানপুখুরী ইউনিয়ন বিএনপির মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা আক্তারের মেয়ে বলেন, “রাস্তার পাশের জমিটি আমাদের। আমাদের জমির পাশে কেউ দোকান করলে ভাড়া দিয়ে দোকান করতে হবে। আমরা আগেই তাকে এখানে দোকান না দিতে বলেছিলাম। তারপরও তিনি দোকান দিয়েছেন। তাই দোকানটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তবে দোকানটি সরকারি রাস্তার ওপর ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখানে দোকান করলে আমাদের ভাড়া দিয়েই করতে হবে, না হলে দোকান করা যাবে না।”
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এরশাদ মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আমি বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি কারও কথা না শুনে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সবাইকে অপমান করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।”
এদিকে ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী, বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি রাস্তার পাশে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি ও দোকান উচ্ছেদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।