দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের যুক্তি, তথ্য ও বক্তব্যে উঠে আসে দুর্নীতির ভয়াবহতা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের করণীয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিভিন্ন কারণ, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে। প্রতিযোগীদের যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানস্থলে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি কেবল রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পথে বাধা নয়, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় হয়, সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে বাদ দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত হবে। তাদের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের চর্চা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।
আয়োজকদের মতে, বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শুধু বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করে না; একই সঙ্গে কোনো সমস্যাকে যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখার সুযোগ তৈরি করে। দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে সচেতন নাগরিক হওয়ার মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের শুরু হতে হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকেই। ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যতে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে আয়োজকরা বলেন, একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়তো একদিনে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারবে না। তবে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে। ধারাবাহিকভাবে এমন কর্মসূচি আয়োজন করা গেলে সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকরা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। তাদের প্রত্যাশা, আজকের সচেতন তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।