বিগত ৫০ বছরে ইতিহাস থেকে দেখা যায় (১৯৭৬ থেকে ২০২৬) বেশ কয়েকটি দেশে সাধারণ জনগণের তীব্র গণঅভ্যুত্থান বা তীব্র আন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসক ও সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ এবং তাদের গণঅভ্যুত্থানের সময়কাল।
উল্লেখ্য ইরান (১৯৭৯): ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে দীর্ঘদিনের রাজতন্ত্র ও শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায়.
ফিলিপাইন (১৯৮৬): ‘পিপল পাওয়ার রেভল্যুশন’ বা জনশক্তির ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে ফার্দিনান্দ মার্কোসের দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনের পতন ঘটে।
চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৮৯): রক্তপাতহীন ‘ভেলভেট রেভল্যুশন’ বা মখমলি বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
তিউনিসিয়া (২০১১): ‘আরব বসন্ত’ (Arab Spring)-এর সূচনা হয় এই দেশে। ব্যাপক জনবিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিন এল-আবিদিন বেন আলি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
মিশর (২০১১): প্রায় ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাহরির স্কয়ারে অবস্থান নেয় এবং তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তার শাসনের অবসান ঘটায়।
সুদান (২০১৯): দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে একটানা গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ (১৯৯০ এবং ২০২৪): ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন ঘটে। এছাড়াও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ সংঘটিত হয়, যার ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
গণঅভ্যুত্থানের বৈশ্বিক নজির:ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান বা গণআন্দোলনের (যেমন- আরব বসন্ত বা অন্যান্য দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) মাধ্যমে যেসব শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন—যেমন ফিলিপাইনের ফার্দিনান্দ মার্কোস, তিউনিসিয়ার জাইন এল আবেদিন বেন আলী, কিংবা হাইতির জ্যঁ-বের্ত্রঁ আরিস্তিদ—তাদের কেউই পুনরায় একই পন্থায় বা সরাসরি ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেননি। বরং এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে সাবেক কোনো নেতা বা দল বহু বছর পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ফিরে এসেছেন, কিন্তু কোনো গণঅভ্যুত্থানের পর স্বয়ং ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধান পুনরায় একই পদে ফিরে আসার নজির আধুনিক ইতিহাসে প্রায় অনুপস্থিত।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টে যা বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) একশত সতেরো পৃষ্ঠার একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
১.রাষ্ট্রীয় সহিংসতা: জাতিসংঘের তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বেআইনি প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়।
২.হত্যাকাণ্ড: ওই দমন-পীড়নে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১৯ হাজারের বেশি আহত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। জাতিসংঘ উল্লেখ করে, বিক্ষোভকারীদের নির্মমভাবে হত্যা ও পঙ্গু করার পেছনে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা ছিল।
৩.আন্তর্জাতিক অপরাধ: জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানান, এসব হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য হতে পারে।
বিগত ৫০ বছরের ইতিহাস থেকে আমরা যা পেয়েছি কোন সরকারে গণঅভ্যর্থনের পর সরাসরি দেশে ফিরে আসেন নি, এখন প্রশ্ন হল জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনের পরে কি করে হুট করে বাংলাদেশের দিনক্ষণ ঠিক করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবে। যেখানে দেখা যায় আওয়ামী শীর্ষস্থানীয় নেতাগণ কেউ দেশে নেই বিভিন্ন দেশে পলাতক জীবন যাপন করছেন, এ থেকে আমরা ধরে নিতে পারি যে তিনি মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে যে সকল নেতাকর্মী আছেন তাদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন।