বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।
বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কক্সবাজারের রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ এবং ‘কমব্যাটিং হিউম্যান ট্র্যাফিকিং, পিপল স্মাগলিং অ্যান্ড সাইবার স্ক্যাম-ফোর পি ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এবারের বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দী’। মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান, সাইবার প্রতারণা এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিই ছিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে সুরাইয়া আমিন।
তিনি বলেন, মানব পাচার একটি সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে গেলে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। একই সঙ্গে মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও প্রতারণার ঝুঁকিও কমে।
বক্তারা বলেন, দালাল ও প্রতারক চক্রের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে মানব পাচার, শোষণ, নির্যাতন, আর্থিক ক্ষতি এমনকি জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত মাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমানে বিদেশে চাকরির নামে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার জালিয়াতির প্রবণতা বাড়ায় এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া চাকরির বিজ্ঞাপন বা বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবে যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর, রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কক্সবাজার সেন্টারের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।