টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কালিদাস হাটে শতবর্ষ ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশাল বটবৃক্ষ। যুগের পর যুগ হাটে আসা হাজারো মানুষের আশ্রয়, বিশ্রাম ও স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে এই মহীরুহ। সপ্তাহে দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—বটগাছের সুশীতল ছায়াতেই বসে কালিদাস হাট, যেখানে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে।
সবজি, মাছ, মসলা, কলা, চারাগাছ, মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশের তৈরি পণ্যসহ নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন শতাধিক ব্যবসায়ী। তাদের অনেকেই জানান, বটগাছের ছায়া গরমের মধ্যেও স্বস্তি এনে দেয় এবং হাট পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিরাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে এই বটগাছের নিচে হাটে আসতেন। গাছটি গ্রামের মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। তিনি গাছটির দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
কালিদাস হাটের সবজি বিক্রেতা ওয়াজেদ খান বলেন, অন্যান্য হাটের তুলনায় এখানে ব্যবসা করতে বেশি স্বস্তি লাগে। বিশাল বটগাছের ছায়ায় সারাদিন নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করা যায়।
সখীপুর সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নাসিমা আক্তার বলেন, বটবৃক্ষ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি যেমন মানুষকে ছায়া দেয়, তেমনি বিভিন্ন পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শওকত আলী মাস্টার বলেন, কালিদাস হাটের এই শতবর্ষী বটগাছ শুধু ঐতিহ্যের স্মারক নয়, বরং মানুষ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনস্থল। দীর্ঘদিন ধরে এটি মানুষের পাশাপাশি নানা প্রজাতির পাখিরও আশ্রয় ও খাদ্যের জোগান দিয়ে আসছে।