জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ‘জুলাই জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে ভোলায় পদযাত্রা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ভোলা জেলা উত্তর শাখা।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় ভোলা সদর হাটখোলা মসজিদ চত্বর থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজারো প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই জাদুঘর উন্মুক্তকরণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’-এর দাবি জানানো হয়।
জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরান হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আহমেদ শাহীন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল মমিন, দাওয়াহ সম্পাদক ও আহত জুলাই যোদ্ধা মুহাম্মদ ইয়াসিন ঢালী, তথ্য, গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ মাঈনউদ্দিন আল আজাদ, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ আরেফ বিল্লাহ ওমর এবং অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ জোবায়ের।
এছাড়া বক্তব্য দেন দৌলতখান উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ, ভোলা সদর থানা উত্তর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আবু রায়হান, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম, ভোলা সদর থানা দক্ষিণ শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ এবং ভোলা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মদ হাসানসহ জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।
পদযাত্রা শেষে সমাবেশে জেলা সভাপতি বলেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পার হলেও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে এখনো আন্দোলন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পাঁচ মাসে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে অবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ‘জুলাই জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো ব্যক্তি বা একক দলের অর্জন নয়; এটি সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান। তাই এর ইতিহাস বিকৃত বা একক কৃতিত্ব দাবি করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, যারা ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করে আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নিয়েছেন, তাদের দ্রুত সনদের সব শর্ত বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শিত হবে না।
সমাবেশ থেকে নেতারা অবিলম্বে ‘জুলাই জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।