ঢাকার ধামরাই উপজেলার হাজিপুর গ্রামের এক সাধারণ নৌকার মাঝির ছেলে শামীম হোসেন। একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবারের সন্তান শামীম ধামরাই উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদানের পর যেন হাতে পেয়েছেন ‘আলাদিনের চেরাগ’। বিগত ১০ বছর একই স্থানে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারণার মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি।
ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সংস্কারের হাওয়া বইলেও এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন স্বাধীনতার পরও ধামরাই কার্যালয়ে শামীম ও তার সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড থামেনি। নতুন বাংলাদেশে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, তখনো এই দুর্নীতিবাজ চক্র তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রভাব খাটিয়ে পুনর্বাসন ও বদলি বাণিজ্য ,স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অবস্থায় ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর দাপটের সাথে কাজ করেন শামীম। এরপর প্রশাসনিক কারণে তাকে জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করে পুনরায় ধামরাইয়ে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভোল পাল্টে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ভাঙিয়ে নিজের আখের গুছাচ্ছেন।
ইটভাটা ও চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট: লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধামরাই এলাকার ইটভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে এবং বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মিত লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন শামীম। এছাড়া চাকরি দেওয়ার নামে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সরকারি নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অসহায় পরিবারগুলোর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মান-ইজ্জতের ভয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায় না। একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটরের এমন উন্মাদ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।
সহযোগী জানে আলম ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট,শামীমের এই অবৈধ সাম্রাজ্য পরিচালনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন অফিসেরই নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ জানে আলম। জানে আলমের মূল দায়িত্ব রাতে অফিস পাহারা দেওয়া হলেও, শামীমের সাথে যোগসাজশে তিনি দিনেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কখনও ইউএনও, কখনও পেশকার, আবার কখনও বড় মাপের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের বোকা বানিয়ে তারা অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এই শক্তিশালী দালাল চক্রের হাতে বর্তমানে জিম্মি হয়ে পড়েছে ধামরাইয়ের সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বক্তব্য:”একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটর ও নৈশপ্রহরীর এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে পুরো ধামরাইয়ের সমাজ ব্যবস্থা ও সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা বর্তমান প্রশাসনের কাছে এদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সচেতন মহলের মতে, অফিসের পিয়ন বা অপারেটর যখন সাধারণ মানুষের ওপর এমন নির্যাতন চালায়, তখন এর দায়ভার পরোক্ষভাবে ওপরমহলের কর্মকর্তাদের ওপরও বর্তায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
ধামরাই ইউএনও অফিসের এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নেপথ্যের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।