ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তার প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
সমাবেশে জানানো হয়, উত্তরা ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার আরিফুল ইসলাম গত ৬ জুলাই খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শাখা থেকে বের হলে পথিমধ্যে ঋণগ্রহীতা মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আনোয়ার হোসাইন, সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস); মনজুরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি; সুমন ভূঁইয়া, আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দল এবং বদরুল আলম সবুজ, সদস্য সচিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দল।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকস এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের জাতীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, আরিফুল ইসলামের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনগত সুরক্ষা এবং ঘোষিত ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জানান এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান । তাদের দাবি সমূহ ,উত্তরা ব্যাংক পি এল সি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারশনের সাবেক সভাপতি বি এম বাকীর হোসেনের হত্যার বিচার,ব্যাংকিং সেক্টরে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালু করতে হবে,ব্যাংকারদের চাকুরীর নিরাপত্তা ও বিশেষ কাজের ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে,বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যায় সকল ব্যাংকে পোষ্যদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে
সকল ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মচারীদের অনতি বিলম্বে স্থায়ীকরণ করতে হবে,সকল ব্যাংকের বর্তমান আউটসোর্সিং পথা বাতিল করে নিয়োজিতের স্থায়ী করতে হবে,সকল ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে,8সকল ব্যাংক থেকে চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।