সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি-কমবে জীবন সম্পদের ক্ষতি এই শ্লোগানে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর
অনুভব কমিউনিটি সেন্টারে এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ সার্কেল কর্তৃপক্ষ। কর্মশালায় পেশাদার চালকদের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চালকদের চক্ষু , রক্তচাপ, গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে Random Blood Sugar (RBS) এর পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পেশাজীবী চালকদের প্রসঙ্গ টেনে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ দেবজানি শার্নাল বলেন, আর ৫০ শতাংশ ড্রাইভার আছে যারা ঠিকমত চোখে দেখেন না। তাদের চোখে অনেক কম পাওয়ার। ঊনি যে লেভেলে ঝাপসা-ঝাপসা দেখে ঊনি ভাবে আমরাও এ রকমই দেখি। এটাই ঊনার কাছে নরমাল। কারণ ঊনি জানেনা,ক্রটি কোথায়। এজন্য আমরা যাদের চোখে সমস্যা দেখেছি তাদেরকে বলেছি এখানে আসার জন্য। আমরা ঊনাদেরকে প্রেসক্রাইব করে দেব। ঊনি শুধু চশমা বানাবে।
বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের কর্মরত মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর বলেন- ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে আগামীতে আরো সহজীকরণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন পেশাদার চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তারা যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন, তা যেন পেশাগত জীবনেও কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।
মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর আরো বলেন- গাড়ি চালকদের রাস্তায় ঘুম চোখে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে এবং অধিক আত্মবিশ্বাস নিয়ে ওভার টেকিং করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানান তিনি।
ময়মনসিংহ বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিন আনিছুর রহমান বলেন- গাড়ির চালকদের রাস্তায় প্রতিযোগিতামূলক ভাবে গাড়ি চালনো থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মালামাল ও যাত্রী বহন করা থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ জানান।
পুলিশের টি আই প্রশাসন ইন্সপেক্টর গোলাম মাওলা বলেন-একজন দক্ষ চালকই পারে সড়কের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে। তিনি পেশাজীবী চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, লাইসেন্স থাকা আর দক্ষ হওয়া এক বিষয় নয়, বরং প্রতিটি ট্রিপে সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলাই একজন সচেতন চালকের মূল পরিচয়।এসময় নিরাপদ ওভারটেকিং, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সড়ক নিরাপত্তার আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা প্রদান করা।যেখানে দুর্ঘটনা রোধে চালকদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি চালকদের পেশাদারিত্বের মানদণ্ড বজায় রাখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের ফলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিআরটিএ প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে এবং যারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে, পেশাজীবী চালকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা ময়মনসিংহ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল প্রশিক্ষণ নয়, বরং চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে অকাল মৃত্যুর মিছিল কমাতে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনেও অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১৬৪ জন পেশাজীবী চালকরা অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও কর্মশালায় মোটরযান কর্মচারী ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।