1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
'পুলিশ-ডিবিও ফিরে গেছে, তোরা সাহস কোথায় পেলি - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
‘পুলিশ-ডিবিও ফিরে গেছে, তোরা সাহস কোথায় পেলি নাইক্ষ্যংছড়িতে উন্নয়নের আড়ালে পাহাড় কাটা, ঝুঁকিতে অর্ধশত পরিবার লক্ষ্মীপুরে জুয়া আর মাদক ব্যবসা রমরমা মাতারবাড়ীকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চকরিয়া থানা পুলিশের তৎপরতায় ৩০ মিনিটে হারানো মোবাইল উদ্ধার সদরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক যুবকের গাজীপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি ভেদভেদীতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবার পেল জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা পড়াশোনার ফাঁকে মানবিক উদ্যোগ আসিফের দলির ৯ দিন পেরোলেও ‘জানেন না’ সিডিএ কর্মকর্তা

‘পুলিশ-ডিবিও ফিরে গেছে, তোরা সাহস কোথায় পেলি

– তাহিরপুরে অভিযানে হামলার অভিযোগ, রক্তাক্ত মাদকবিরোধী টিম

reporter নিজস্ব প্রতিবেদক (সুনামগঞ্জ)
calendar প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাহারাম গ্রামে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সদস্যদের। সংগঠনটির দাবি, অভিযানের সময় অভিযুক্ত মাসুক মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। হামলার আগে অভিযুক্ত প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “পুলিশ, ডিবি আইয়া পিডা খায়ইয়া গেছে, তোরা এই সাহস কই পাইছস?” বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আল আমিন ও আল মামুন জানান, শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর তারা বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পকে বিষয়টি অবহিত করে প্রায় ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে মাহারাম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের দাবি, ক্যাম্প ইনচার্জ অভিযানে যেতে অপারগতার কথা জানালেও প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে বলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাসুক মিয়ার বাড়ির কাছে পৌঁছাতেই তিনি দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান নেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উত্তেজনাকর আচরণ শুরু করেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থানরত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, এরপর প্রায় এক ঘণ্টা ঘরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। তাদের ধারণা, এই সময়ের মধ্যে ঘরে থাকা ইয়াবা সরিয়ে ফেলা হয়। পরে তল্লাশির জন্য দরজা খুলে দিলে চারজন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই সময় বাইরে অবস্থানরত সদস্যদের ওপর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার খবর পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আল মামুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে দেখতে পান বলে অভিযোগকারীরা জানান। তাদের দাবি, হামলায় একাধিক ব্যক্তি রক্তাক্ত হন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি আল আমিন বলেন, আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার মূল কারণ মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। জুমার নামাজের পর আমরা বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পকে অভিযানের বিষয়ে অবহিত করি। ক্যাম্প ইনচার্জ ব্যক্তিগত কারণে যেতে পারবেন না জানালে আমরা প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করব বলে রওনা হই। মাসুক মিয়ার বাড়ির কাছে পৌঁছানোর পরই তিনি দেশীয় অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশে হুমকি দিতে থাকেন। তিনি দাবি করেন, ‘এখানে পুলিশ-ডিবিও কিছু করতে পারেনি, তোরা সাহস কোথায় পেলি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আমাদের সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা ঘরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। আমাদের সন্দেহ, এই সময়ের মধ্যে ঘরে থাকা ইয়াবা সরিয়ে ফেলা হয়। পরে তল্লাশির অনুমতি দিলে আমরা চারজন ঘরে প্রবেশ করি। ঠিক তখনই বাইরে থাকা আমাদের সদস্যদের ওপর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি আমার ছোট ভাই আল মামুনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হচ্ছে। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বাড়ি তল্লাশি করে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

হামলার ঘটনায় যখম কৃত আল মামুন বলেন, মাসুক আরও তিন চারটা মিলে আঘাত করছে, এর মাঝে আশরাফ আলী তার কোমড়ে প্রথমেই আঘাত করে বলে জানান তিনি। কি কারণে আঘাত করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি আরও তিনজন নিয়ে তার বাসার ভিতরে গেছে আমি বাইরে ছিলাম আমি তার বাসার পিছন দিক দিয়ে গেছি তখন ইয়াবার কাগজ বাইরে ফালাইছে এই গুলো আমি ভিতরে একজনের কাছে দিতেই আমারে পিছন থেকে ধরে আঘাত করছে।
এই ব্যবসার সাথে মাসুকের বউ আর ছেলেও জড়িত। এলাকার সবাই ভয়ে বলতে পারে না।

স্থানীয় যুবক তারেক আল মামুন প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরারে ঘরে ডুকাইয়া বাইরে তারারে আক্রমণ করছে। মোল্লাপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী সাইফুলরে ইসলাম উদ্দীন বেডার হাতে ভারি দিয়া আশরাফ আলী, আলমগীর তারে চুঠাইয়া নিছে। আরেক জনের কপাল পাঠাইয়া দিছে কামডা কি ঠিক করলো!

মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সংগঠনের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, অভিযানের সময় মাসুক মিয়া ও তার সহযোগীরা তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
একই পোস্টে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অভিযুক্ত মাসুক মিয়া ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত ও অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আল আমিন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মাসুক মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হত্যাচেষ্টা, সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর জখম এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুক মিয়া বা তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক আহমদ বলেন, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের ধরার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com